২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক প্রবণতা উঠে এসেছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পর ভারতের যে দুটি রাজ্যে সবথেকে বেশি মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে, সেই পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে এবার সংখ্যালঘু জনপ্রতিনিধির সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে। নির্বাচনী পরিসংখ্যান বলছে, শক্তিশালী বিরোধী হাওয়া এবং মেরুকরণের রাজনীতির আবহে পশ্চিমবঙ্গ ও অসম মিলিয়ে মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা গতবারের তুলনায় ১৫ জন হ্রাস পেয়েছে। উল্টো চিত্র দেখা গিয়েছে দক্ষিণের রাজ্য কেরলে, যেখানে মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা আরও ৩ জন বৃদ্ধি পেয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের মধ্যে এবার ৩৬ জন মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই সংখ্যাটি ছিল ৪২। অর্থাৎ বাংলায় এক লপ্তে ৬টি আসন হারিয়েছে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব। এই ৩৬ জনের মধ্যে ৩১ জনই তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জিতে বিধানসভায় পৌঁছেছেন। বাকি ৫ জন বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দলের প্রতিনিধি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার রাজ্যে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের ফলে তৃণমূলের আসন কমায় এই প্রভাব পড়েছে।
অসমেও চিত্রটা খুব একটা আলাদা নয়। ১২৬টি আসনের এই রাজ্যে এবার মাত্র ২২ জন মুসলিম বিধায়ক জয়ী হতে পেরেছেন। গতবার এই সংখ্যাটি অনেক বেশি ছিল। এবার কংগ্রেসের প্রতীকে ১৮ জন জয়ী হলেও, এআইইউডিএফ বা বদরুদ্দিন আজমলের দল বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। আজমলের দল থেকে মাত্র ২ জন এবং অখিল গগৈয়ের দল থেকে ১ জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
তবে উত্তর ও পূর্ব ভারতের এই নিম্নমুখী ট্রেন্ডের সম্পূর্ণ বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে কেরল। ১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় এবার মুসলিম বিধায়কের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৩৫ হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বড় সাফল্য পেয়েছে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (IUML), তাদের টিকিটে ২২ জন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কংগ্রেসের প্রতীকে জিতেছেন ৮ জন। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে এবার মোট ৯ জন মুসলিম বিধায়ক জয়ী হয়েছেন, যার মধ্যে একজন কংগ্রেসের।
জাতীয় স্তরে এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছিল দেশে মুসলিম সাংসদের হার মাত্র ৫ শতাংশে এসে ঠেকেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে বিজেপির সরকার গঠনের ফলে আগামী দিনে এই রাজ্যের সংখ্যালঘু রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।





