গ্যাসের বিল দেখে হাত কামড়াচ্ছেন? এই ৪টি ছোট অভ্যাসে বাঁচবে জলের মতো টাকা!

এলপিজি গ্যাস (LPG Gas) ব্যবহারের ক্ষেত্রে পকেটের খরচ কমানো এখন প্রতিটি মধ্যবিত্ত সংসারেরই অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মাস ফুরোনোর আগেই সিলিন্ডার খালি হয়ে গেলে সংসারের মাসিক বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। এই খরচ সামলাতে অনেকেই নানা কৌশল বা টোটকা খোঁজেন। কেউ হয়তো ভাবেন গ্যাসের আঁচ একেবারে কমিয়ে রাখলে বুঝি অনেকটা গ্যাস বেঁচে যাবে, আবার কারও ধারণা বেশি আঁচে ঝটপট রান্না শেষ করে ফেললে গ্যাস সাশ্রয় হয়। কিন্তু আদতে কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল? বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব বেশি কিংবা খুব কম—কোনো আঁচই সব সময় সঠিক নয়। আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে ‘প্রয়োজনীয় আঁচ’ বোঝার মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, রান্না করার সময় হাঁড়ি বা কড়াইয়ের মাপে যতটুকু তাপ দরকার, ঠিক ততটুকুই রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। রান্নার সময় আগুনের শিখা যদি হাঁড়ির তলা ছাড়িয়ে দু’পাশে ছড়িয়ে পড়ে, তবে সেই অতিরিক্ত তাপ বাতাসে অপচয় হয় এবং কাজের কাজ কিছুই হয় না।
অবশ্য এর মানে এই নয় যে সমস্ত রান্না একেবারে কম আঁচে করতে হবে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, রান্নার শুরুতে জল ফোটানো বা তেল গরম করার জন্য মাঝারি থেকে একটু বেশি আঁচে দরকার হয়। কিন্তু জল একবার ফুটতে শুরু করলে বা কড়াই গরম হলে আঁচ কমিয়ে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, ফুটন্ত জলে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ করলে খাবার তাড়াতাড়ি সেদ্ধ হয় না, বরং বিনা কারণে বেশি পরিমাণে গ্যাস খরচ হতে থাকে। শুধু রান্নার আঁচ সামলানোই নয়, রান্নাঘরের দৈনন্দিন কিছু ছোট অভ্যাস বদলালেই গ্যাসের বিল অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রথমত, সবসময় ঢাকনা দিয়ে রান্না করা উচিত; ঢেকে রান্না করলে ভেতরের তাপ ভেতরেই আটকে থাকে, ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং গ্যাস কম খরচ হয়। দ্বিতীয়ত, ডাল, ছোলা বা চাল রান্নার অন্তত আধঘণ্টা আগে জলে ভিজিয়ে রাখলে তা গ্যাস ও সময় দুটোই বাঁচায়। তৃতীয়ত, মাংস বা শক্ত যেকোনো খাবার কড়াইতে না ফুটিয়ে প্রেশার কুকারে রাঁধলে কম গ্যাসে খুব দ্রুত রান্না শেষ হয়। চতুর্থত, পাত্রে সবসময় মেপে জল দেওয়া উচিত, কারণ অতিরিক্ত জল ফোটাতে বেশি জ্বালানি খরচ হয়। পঞ্চমত, সঠিক বার্নার বেছে নেওয়া জরুরি; ছোট হাঁড়ির জন্য ছোট বার্নার ব্যবহার করা উচিত, অন্যথায় পাত্রের চেয়ে বার্নার বড় হলে তাপ বাইরে নষ্ট হয়। ষষ্ঠত, বার্নার সবসময় পরিষ্কার রাখা দরকার; আগুনের শিখা নীল না হয়ে যদি হলুদ বা কমলা রঙের জ্বলে, তবে বুঝতে হবে বার্নারে ময়লা জমে গ্যাস অপচয় হচ্ছে। সবশেষে, গুছিয়ে কাজ করার অভ্যাস গ্যাসের সাশ্রয়ে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। সবজি কাটা, ধোয়া কিংবা মশলা মেখে রাখার মতো যাবতীয় প্রস্তুতি আগে থেকেই সেরে রেখে তবেই গ্যাস জ্বালানো উচিত। এই সাধারণ ও সহজ নিয়মগুলো ঠিকঠাক মেনে চললেই মাসের শেষে গ্যাসের খরচ একধাক্কায় অনেকটাই কমে আসবে।