সিআইডি ও সন্ত্রাসদমন শাখার নজরে কো-পাইলট! অতীতে ওমান এয়ার থেকে বরখাস্ত হওয়া এই যুবকের কাণ্ডে চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক আকাশপথে এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার গাফিলতির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুबई’ (Flydubai)-র একটি ফ্লাইটে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত मच्छार (Smit Machhar)-এর ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ওমানের কো-পাইলটের আসল পরিচয় সামনে এসেছে। ‘আল আরাবিয়া ইংলিশ’ (Al Arabiya English)-এর নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত এই ওমানি কো-পাইলটের নাম হামম আল-হমমি (Hammam Al-Hammami)। চাঞ্চল্যকর তথ্যে প্রকাশ, অতীতে সিরিয়ায় বসবাস করার সময় তার মধ্যে চরমপন্থী ও উগ্রবাদী মনোভাবের প্রভাব তৈরি হয়েছিল, যার জেরে ওমান কর্তৃপক্ষ তাকে সে দেশে বিমান ওড়ানো থেকে বিরত রেখেছিল এবং বরখাস্ত করেছিল।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, চরমপন্থী ভাবধারার কারণে নিজ দেশ ওমানে নিষিদ্ধ হওয়ার পর ওই কো-পাইলট ওমান ছেড়ে চলে যান। তার জীবনের একটি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অতিবাহিত হয়, যার সিংহভাগ কেটেছে সিরিয়ায়। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) পাড়ি জমানোর আগে তিনি চরমপন্থী মতাদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা সিএনএন (CNN)-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, চরমপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার সন্দেহে এবং নিরাপত্তার কারণে এই ওমানি কো-পাইলটকে এর আগে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থায় তার পূর্ববর্তী চাকরি থেকেও অপসারণ করা হয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এক আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র সিএনএন-কে নিশ্চিত করেছে যে, উগ্রপন্থী চিন্তাভাবনার আশঙ্কার জেরে ওই ব্যক্তিকে তার প্রাথমিক প্রশিক্ষণ পর্ব থেকেও একবার বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য এয়ারলাইন্সে তাকে অন্য একটি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানা গেছে, অভিযুক্তের বাবা ওমানের নাগরিক এবং মা সিরিয়ার অধিবাসী। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে যে, তার জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরাতে এবং জীবনের বেশ কিছু বছর তিনি সেখানেই কাটিয়েছিলেন।

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, সৌদি আরবের আকাশে ও মাটি ছোঁওয়ার পর ওই অভিযুক্তকে বিমান থেকে আটক করে সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। বর্তমানে ইউএই-র নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা আধিকারিকরা এই ঘটনার গভীরে পৌঁছে সন্ত্রাসবাদ ও অন্যান্য নাশকতার যোগসূত্র নিয়ে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছেন। একজন ইসরায়েলি আধিকারিক সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযুক্ত কো-পাইলট ‘ফ্লাইদুबई’-এর সংস্থায় সবেমাত্র আট মাস ধরে চাকরি করছিলেন। এর বাইরে অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে যে, তিনি অতীতে ‘রয়্যাল এয়ার মারোক’ (Royal Air Maroc)-এর মতো আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রেখেছিলেন। ককপিটের ভেতরে এমন স্পর্শকাতর ও ভয়ংকর হামলার ঘটনা বিমান নিরাপত্তার মানদণ্ড নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।