সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে— প্রচলিত এই কথাটি বোধহয় গুজরাটের এই ব্যক্তির জীবনে ঠিক উল্টো হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ত্রীর অতিরিক্ত ‘পথকুকুর’ প্রীতি এবং মানসিক অত্যাচারে জীবন অতিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ তুলে এবার গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, এই অশান্তির জেরেই তিনি এখন ইরেকটাইল ডিসফাংশন (ED) বা শীঘ্র পতনের মতো শারীরিক সমস্যার শিকার।
ফ্ল্যাটে ‘ডগ স্কোয়াড’, বিপাকে স্বামী
৪১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির অভিযোগ, ২০০৬ সালে বিয়ের পর থেকেই সমস্যা শুরু হয়। ফ্ল্যাটে পোষ্য রাখার অনুমতি না থাকলেও তাঁর স্ত্রী জোর করে পথকুকুর নিয়ে আসতেন।
কুকুরের রান্না থেকে শুরু করে মলমূত্র পরিষ্কার— সব দায়িত্ব জোর করে স্বামীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হত।
অভিযোগ, বিছানায় শোওয়া নিয়ে কুকুরের সঙ্গে বিবাদে একবার কামড়ও খেতে হয়েছে স্বামীকে।
স্ত্রী একটি পশু অধিকার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় কথায় কথায় স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিতেন।
বার্থডে প্র্যাঙ্ক ও ‘কাল্পনিক প্রেমিকা’র আতঙ্ক
২০০৭ সালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে স্বামী জানান, তাঁর জন্মদিনে স্ত্রী এক রেডিও জকিকে দিয়ে লাইভ অনুষ্ঠানে ফোন করান। সেখানে ওই জকি নিজেকে স্বামীর ‘গোপন প্রেমিকা’ বলে দাবি করেন। এই ঘটনায় কর্মক্ষেত্রে ও পাড়ায় চরম অপমানের শিকার হন তিনি। পরে এটিকে ‘এপ্রিল ফুল’ মজা বলা হলেও, এর প্রভাব পড়েছিল দীর্ঘমেয়াদী।
মানসিক চাপ থেকে শারীরিক অসুস্থতা
আবেদনকারী স্বামী আদালতে জানিয়েছেন, ক্রমাগত এই মানসিক উদ্বেগের ফলে তাঁর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। পরিস্থিতির অবনতি এতটাই হয় যে, তিনি শারীরিক সক্ষমতা হারান (Erectile Dysfunction)। তাঁর দাবি, স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের আচরণ তাঁকে তিল তিল করে শেষ করে দিয়েছে।
খোরপোশ নিয়ে দরাদরি: ২ কোটি বনাম ১৫ লক্ষ
বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদের এই মামলায় তুঙ্গে উঠেছে টাকার লড়াই।
স্ত্রীর দাবি: এককালীন ২ কোটি টাকা থোক খোরপোশ দিতে হবে।
স্বামীর পাল্টা দাবি: তাঁর আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি ১৫ লক্ষ টাকার বেশি দিতে পারবেন না।
গুজরাট হাইকোর্ট এই বিচিত্র মামলার গভীরতা বিচার করে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ১ ডিসেম্বর। এখন দেখার, আদালত এই ‘অস্বাভাবিক’ বৈবাহিক বিবাদ নিয়ে কী রায় দেয়।





