সপ্তাহের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতের শেয়ার বাজার। লগ্নিকারীদের সব আশা জল ঢেলে সোমবার ট্রেডিং সেশন শুরু হতেই আছড়ে পড়ল ধস। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনসেক্স ও নিফটি৫০—উভয় বেঞ্চমার্ক ইনডেক্সই প্রায় আড়াই শতাংশের বেশি পড়ে গিয়ে দালাল স্ট্রিটে কার্যত রক্তস্নান পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
একনজরে আজকের বাজারের ছবি:
-
সেনসেক্স: বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সেনসেক্স ১৭৮৬ পয়েন্ট (২.৩৯%) কমে দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৭৪৬ পয়েন্টে।
-
নিফটি৫০: নিফটি ৫৯১ পয়েন্ট (২.৫৬%) পড়ে গিয়ে থিতু হয়েছে ২২ হাজার ৫২২ পয়েন্টে।
-
সেক্টরাল ইনডেক্স: মেটাল, ট্যুরিজম, ডিফেন্স এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর সূচক ৪ শতাংশের বেশি পড়ে গিয়েছে। সেনসেক্সের তালিকাভুক্ত ৩০টি স্টকের প্রতিটিই এদিন পতনের মুখ দেখেছে।
কেন এই ভরাডুবি? ৫টি প্রধান কারণ:
১. ট্রাম্পের হুমকি ও যুদ্ধ আতঙ্ক: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে মধ্যস্থতার বদলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন তিনি। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানও। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে।
২. টাকার দামে ঐতিহাসিক পতন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দাম রেকর্ড কমে ৯৩.৮৪-এ ঠেকেছে। বিদেশি লগ্নিকারীরা (FII) বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ায় রুপির ওপর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।
৩. তেলের বাজারে আগুন: হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ভারত যেহেতু আমদানিনির্ভর দেশ, তাই তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের রাজকোষে বাড়তি চাপ তৈরি করছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে।
৪. এশীয় বাজারের প্রভাব: শুধু ভারত নয়, সোমবার সকাল থেকে জাপান (Nikkei), হংকং (Hang Seng) এবং চিনের বাজারগুলোতেও ধস নেমেছে। বিশ্ববাজারের এই নেতিবাচক প্রবণতা থেকে বাঁচতে পারেনি সেনসেক্স-নিফটিও।
৫. অনিশ্চয়তা: মার্চ মাসের শুরু থেকেই বাজারে অস্থিরতা ছিল। গত সপ্তাহে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা দিলেও যুদ্ধের নতুন সমীকরণ সেই সম্ভাবনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।