“কাঠগড়ায় বিবাহিত প্রেমিক”-১৬ লক্ষ ফলোয়ারের জনপ্রিয় ইনফুলেন্সারের রহস্যমৃত্যু!

মধ্যপ্রদেশের সিংগ্রাউলিতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনफ्लুয়েন্সার নিধি তিওয়ারির রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। পুলিশি তদন্তের তীর এখন মৃতার প্রেমিক সোনু সিংয়ের দিকে। নিধির পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ, বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা ওই যুবকের চরম মানসিক চাপ ও নজরদারির জেরেই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লক্ষ ফলোয়ারের ওই জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রেমিকের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
নিধির মা হেমলতা তিওয়ারি জানিয়েছেন, সিংগ্রাউলির মোরওয়া এলাকার একটি হোটেলে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন নিধি। সেই হোটেলেই নর্দার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড বা এনসিএল-এর (NCL) এক সংস্থায় কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার সোনু সিংয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় গড়ায় গভীর প্রেমে। পরিবারের দাবি, সোনু বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও নিধির ওপর কড়া নজর রাখতেন। নিধির কানে প্রায় সবসময় ব্লুটুথ ডিভাইস গোঁজা থাকত এবং সেই মাধ্যমেই প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর নিরন্তর যোগাযোগ বজায় রাখতে হতো। পরিবারের দাবি, এই অসুস্থ সম্পর্কের বেড়াজালেই হাঁপিয়ে উঠেছিল মেয়েটি।
মৃত্যুর আগের মুহূর্তের নাটকীয় ফোন কল
পরিবারের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার দিন পুজো-পাঠ সেরে নিধির মা নিজের ঘরে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ই অভিযুক্ত সোনু সিং সরাসরি তাঁর মায়ের ফোনে যোগাযোগ করেন। হেমলতা দেবীর দাবি, ফোনে সোনু তাঁকে আতঙ্কের সুরে বলেন, ‘আন্টি, তাড়াতাড়ি উপরে যান, নিধি গলায় দড়ি দিচ্ছে।’
এই কথা শোনার পরেই পরিবারের লোকজন ছুটে গিয়ে নিধিদের ঘরের দরজায় ধাক্কা দেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া না মেলায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তাঁরা। সিলিং ফ্যানের সঙ্গে দোপাট্টায় ঝুলন্ত অবস্থায় নিধিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ভাইরাল শেষ স্টেটাস ও তদন্তের দিক
মৃতার পরিবার জানিয়েছে, সংসারের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন নিধিই। তাঁর উপার্জনেই সংসার চলত। এদিকে মৃত্যুর ঠিক আগে নিধির একটি সোশ্যাল মিডিয়া স্টেটাস নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার হৃদয়কে কেউ পূর্ণ করেনি, আমি নিজেই পূর্ণ করে নিয়েছি…’। নিজেকে ভালোবাসার কথা এবং অন্যের মধ্যে নিজেকে না খুঁজে নিজের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার বার্তা লেখা ওই পোস্টটি এখন তদন্তের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং নেপথ্যে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন সোনু সিংয়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের নাগাল পেতে এবং তাঁর সঙ্গে নিধির সম্পর্কের আসল সমীকরণ বুঝতে সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।