পুজোর আগেই অ্যাকাউন্টে টাকা! অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

উৎসবের মরসুমের আগে রাজ্যের মহিলাদের জন্য বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব বর্ধমানের একটি সরকারি অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ইতিমধ্যেই বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গিয়েছে এবং বাকি যোগ্য উপভোক্তারাও আগামী মাসের মধ্যেই এই সুবিধা পেয়ে যাবেন।
কৃষকদের উন্নয়ন ও পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রতি ইউনিটে দুই টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকির সূচনা করতে সম্প্রতি বর্ধমানে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠান থেকেই তিনি রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্পের অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই প্রকল্পের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জেলায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মোট ১২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৮১ জন মহিলা আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩২ জন উপভোক্তার আবেদন প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এর বাইরে ১৭ হাজার ৪৫ জনের আবেদন বাতিল হয়েছে, ১০ হাজার ৭১৪ জনের ভেরিফিকেশন পেন্ডিং রয়েছে এবং কিছু আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই জেলায় ইতিমধ্যে ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৩১ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হয়ে গিয়েছে। ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্র হিসাব করলে দেখা যায়, গড়ে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। পুজোয় বাকিদের অ্যাকাউন্টেও টাকা ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। রাজ্যের বর্তমান সরকারের কাজের গতি বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, আগের সরকার সামান্য ৫০০ টাকা দিতে ৯ মাস সময় লাগিয়েছিল, অথচ বর্তমান সরকারের পাঁচ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলাকে এই টাকা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিধাননগরের বইমেলা প্রাঙ্গণে অন্নপূর্ণা দিবস উদযাপিত হয়। ওই দিনই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে জমা পড়েছিল। সেদিন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানান, নারীক্ষমতায়ন ও বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। গত ৯ মে শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এত বড় প্রকল্প নেই।