শেয়ার বাজারে ধস নামতেই কি ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন ভাঙল? রিয়েল এস্টেট বাজারে বড় ধাক্কা!

ভারতীয় শেয়ার বাজারের লাগাতার অস্থিরতা এবং গত আট সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক শেয়ার বিক্রি বিনিয়োগকারীদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) শেয়ার তুলে নেওয়ার এই হিড়িকে মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকা খুইয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। চলতি ২০২৬ সালে সেনসেক্স এবং নিফটি প্রায় ১৫% পর্যন্ত নিচে নেমে এসেছে। আর এই শেয়ার বাজারের মন্দার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের আবাসন বাজারেও। রিয়েল এস্টেট ডেটা অ্যানালিটিক্স সংস্থা ‘প্রপইকুইটি’-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (Q3) দেশের শীর্ষ নয়টি শহরে বাড়ির বিক্রি গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কমে গেছে, যেখানে মোট ১০৩,১৭০টি আবাসন বিক্রি হয়েছে।

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের তুলনায় তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বাড়ি বিক্রি কমেছে ৪ শতাংশ। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্প চালুর সংখ্যাতেও ১৫ শতাংশ বড়সড় হ্রাস দেখা গেছে। যেখানে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ১,১৫,০১০টি নতুন বাড়ি বাজারে এসেছিল, সেখানে তৃতীয় ত্রৈমাসিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮,১৬৫ ইউনিটে। থানেতে নতুন প্রকল্প ২৮%, চেন্নাইতে ২২%, দিল্লি-এনসিআর-এ ১৯% এবং পুনেতে ১৭% হ্রাস পেয়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতারা এখন যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট দ্বিধগ্রস্ত ও বাজেট-সচেতন হয়ে পড়েছেন। চেন্নাই ও পুনেতে বার্ষিক বিক্রি যথাক্রমে ১৭% ও ১৬% পর্যন্ত কমেছে।

তবে সামগ্রিক বাজারে মন্দা চললেও এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে হায়দ্রাবাদে। সেখানে নতুন প্রকল্প চালুর হার ৬৮ শতাংশ এবং বাড়ি বিক্রি ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নভি মুম্বাইতেও বিক্রির গতি ইতিবাচক রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, আসন্ন উৎসবের মরসুমে রিয়েল এস্টেট সেক্টর ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং পুজোর অফার ও শুভ সময়ের হাত ধরে ক্রেতারা আবারও বাজারমুখী হবেন।