বর্তমানের অনিশ্চিত বাজারে যেখানে বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলে নিতে ব্যস্ত, সেখানে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা LIC নিয়ে এসেছে এক আকর্ষণীয় বিমা প্রকল্প। নাম— জীবন লাভ (Table No. 936)। এটি একটি সীমিত প্রিমিয়াম পেমেন্ট প্ল্যান, যেখানে আপনাকে পলিসির পুরো সময়কাল টাকা জমা দিতে হবে না।
কীভাবে কাজ করে এই ১৬৬ টাকার ম্যাজিক?
ধরুন আপনার বয়স ৩০ বছর এবং আপনি ২৫ বছরের মেয়াদে এই পলিসিটি গ্রহণ করেছেন। অংকের হিসেবটা হবে ঠিক এইরকম:
প্রতিদিনের সঞ্চয়: ১৬৬ টাকা।
বার্ষিক বিনিয়োগ: প্রায় ৬০,৫৯০ টাকা।
টাকা জমা দেওয়ার মেয়াদ: আপনাকে ২৫ বছর টাকা দিতে হবে না, দিতে হবে মাত্র ১৬ বছর।
মোট জমা আসল: ১৬ বছরে আপনার পকেট থেকে যাবে প্রায় ৯.৬৯ লক্ষ টাকা।
মেয়াদ শেষে প্রাপ্তি (Maturity Benefits)
১৬ বছর প্রিমিয়াম দেওয়ার পর বাকি ৯ বছর আপনাকে কোনো টাকা দিতে হবে না। ২৫ বছর পূর্ণ হলে আপনি পাবেন: ১. সাম অ্যাসিওরড (নিশ্চিত রাশি): ১০ লক্ষ টাকা। ২. রিভিশনারি বোনাস ও এফএবি: এলআইসি-র পক্ষ থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত বোনাস যোগ হবে। ৩. মোট রিটার্ন: সব মিলিয়ে আপনার হাতে আসবে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।
কেন বেছে নেবেন এই স্কিম?
ট্যাক্স বেনিফিট: ইনকাম ট্যাক্সের ৮০সি (80C) ধারা অনুযায়ী প্রিমিয়ামের ওপর ছাড় পাওয়া যাবে। এমনকি ম্যাচিউরিটির টাকাও হবে করমুক্ত (১০ডি ধারা অনুযায়ী)।
সুরক্ষা ও বিমা: পলিসি চলাকালীন বিনিয়োগকারীর মৃত্যু হলে নমিনি পাবেন নিশ্চিত বিমার টাকা।
ঋণ সুবিধা: ৩ বছর প্রিমিয়াম দেওয়ার পর এই পলিসির বিপরীতে লোনও নেওয়া সম্ভব।
এডিটরস ইনসাইট: ফিক্সড ডিপোজিট বা সাধারণ সেভিংসের তুলনায় জীবন লাভ স্কিমে রিটার্ন এবং লাইফ কভার— দুই-ই পাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, মুদ্রাস্ফীতির বাজারে দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় শুরু করার আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য স্থির করা এবং বিমা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।





