বিজেপি নেতা তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে রহস্যের জাল। তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা এমন কিছু তথ্য হাতে পেয়েছেন, যা এই হত্যাকাণ্ডকে এক সুপরিকল্পিত ‘প্রফেশনাল হিট’ হিসেবেই চিহ্নিত করছে। ঘাতকরা শুধু অস্ত্র হাতেই নামেনি, বরং পুলিশের নজর এড়াতে ব্যবহার করেছিল শিলিগুড়ির একটি ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো বাইক ও একটি রহস্যময় চার চাকা গাড়ি।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধাওয়া করে আটক করা চার চাকা গাড়িটির নম্বর প্লেট খতিয়ে দেখতেই তদন্তকারীরা বড়সড় চমকের মুখে পড়েন। ওই নম্বরের সূত্র ধরে আসল মালিকের খোঁজ করা হলে দেখা যায়, আসল গাড়িটি তার মালিকের গ্যারেজেই সুরক্ষিত রয়েছে। অর্থাৎ, আততায়ীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে অন্য একটি বৈধ গাড়ির নম্বর নকল করে নিজেদের গাড়িতে ব্যবহার করেছিল। এই ‘ক্লোন নম্বর প্লেট’ ব্যবহারের কৌশল প্রমাণ করে যে, এই অপারেশনটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত এবং দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনার ফসল।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে বুধবার রাতেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তিনি শুধু আহতদের সঙ্গেই কথা বলেননি, বরং মধ্যমগ্রাম থানায় বসে দীর্ঘক্ষণ তদন্তের ব্লু-প্রিন্ট খতিয়ে দেখেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা চন্দ্রনাথের সেই রক্তাত গাড়িটি পরীক্ষা করছেন। ঘটনাস্থল থেকে মিলেছে একাধিক বুলেটের খোল এবং রক্তের নমুনা। এসটিএফ (STF) গোয়েন্দারাও এই তদন্তে সামিল হয়েছেন, কারণ তাঁদের প্রাথমিক অনুমান—এর পিছনে কোনও বড় আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্র বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
তদন্তকারীদের মতে, খুনিরা চন্দ্রনাথের গতিবিধি সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানত। আগে থেকেই তাঁর ওপর নজরদারি (Recce) চালানো হয়েছিল। ভুয়ো নম্বর প্লেট ব্যবহার এবং পালানোর রুট আগে থেকে ঠিক করে রাখা থেকেই স্পষ্ট যে এটি কোনও আকস্মিক হামলা নয়। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে নাকা তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।





