শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল দাহ! খগেন মুর্মু কাণ্ডে চরম বিক্ষোভে ফুঁসছে বিজেপি

উত্তরবঙ্গে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবার উত্তাল হয়ে উঠল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুর। মঙ্গলবার দুপুরে কাঁথিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল দাহ করে এবং পথ অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল বিজেপি জেলা নেতৃত্ব।
১ ঘণ্টা অবরোধ, তীব্র যানজট
সোমবার উত্তরবঙ্গে বন্যা বিধ্বস্ত মানুষের ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে মালদা কেন্দ্রের সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আক্রান্ত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার দুপুরে কাঁথির খড়গপুর বাসস্ট্যাণ্ডে একজোট হন বিজেপি নেতৃত্বরা। তাঁরা প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান, যার জেরে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে কাঁথি থানার আইসি প্রদীপ কুমার দাঁ সহ পুলিশ কর্মীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে আসেন।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক অরূপ কুমার দাস, কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর মণ্ডল সহ একাধিক জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্ব।
‘নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আক্রান্ত, মদত রয়েছে প্রশাসনের’
কাঁথি সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর মণ্ডল এই ঘটনাকে ‘ভয়ংকর’ বলে উল্লেখ করে সরাসরি রাজ্য সরকার ও পুলিশকে আক্রমণ করেন।
তিনি বলেন, “এ রাজ্যে পুলিশ, প্রশাসন ও আইন নেই। স্বাধীনতার পর সারা ভারতবর্ষে এই ধরনের ভয়ংকর ঘটনা কেউ কোথাও দেখেনি।” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত সাংসদ ও বিধায়ক ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে ‘জিহাদীদের দ্বারা’ আক্রান্ত হচ্ছেন এবং এর পেছনে রাজ্য প্রশাসনের মদত রয়েছে। চন্দ্রশেখর মণ্ডল পুলিশকে ‘দলদাসে’ পরিণত হওয়ার অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দেন, “মানুষ যদি আইন শৃঙ্খলা হাতে তুলে নেয়, পুলিশ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। সারা ভারতবর্ষে এরকম নির্লজ্জ মুখ্যমন্ত্রী আগে কখনওও দেখেনি।”
দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক অরূপ কুমার দাস আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “উত্তরবঙ্গের তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব নেই। বিজেপি নেতাদের আক্রমণ করে পুলিশ প্রশাসনকে বসিয়ে রেখে, ওখানকার ভোটারকে ভয় দেখানোর জন্যই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তৃণমূলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই এই নিন্দনীয় ও বর্বর আক্রমণ।”