বুধবারের তপ্ত দুপুরে কলকাতার রাজপথ সাক্ষী থাকতে চলেছে এক অনন্য রাজনৈতিক কোলাজের। নিজের খাসতালুক ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে চলেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবারের মনোনয়ন পেশ কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং বিরোধীদের ‘মেরুকরণের’ রাজনীতির বিরুদ্ধে এক বিশাল ‘সম্প্রীতির’ পাল্টা চ্যালেঞ্জ।
‘মিনি ইন্ডিয়া’র মিলনমেলা
ভবানীপুরকে বলা হয় কলকাতার ‘কসমোপলিটান’ হৃদপিণ্ড। এখানে যেমন আছেন খাঁটি বাঙালি, তেমনই রয়েছেন পাঞ্জাবি, গুজরাতি, মাড়োয়ারি, জৈন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ওড়িশার মানুষেরও এটি প্রিয় আস্তানা। তৃণমূল সূত্রের খবর, মমতার মনোনয়ন মিছিলে এই সমস্ত ভাষা ও ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত এই মিছিলে আক্ষরিক অর্থেই ফুটে উঠবে ‘মিনি ইন্ডিয়া’র ছবি।
প্রস্তাবকের তালিকায় চমক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়নে প্রস্তাবক হিসেবে সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধিত্ব থাকছে। প্রস্তাবকদের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন:
ইসমাত হাকিম: কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী।
বাবলু সিংহ: ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি।
মীরজ শাহ: ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির প্রতিনিধি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈচিত্র্যময় প্রস্তাবক নির্বাচন নিছক কাকতালীয় নয়; বরং এটি বহুত্ববাদী রাজনীতির এক সুপরিকল্পিত কৌশল।
বিরোধী শিবিরের পাল্টা জবাব?
উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশের দিন উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই মিছিলকে তৃণমূল ‘মেরুকরণের রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছিল। এবার নিজের মনোনয়ন পেশের দিন সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই জল্পনার যোগ্য জবাব দিতে চাইছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মিছিলের প্রস্তুতি তুঙ্গে
বুধবারের এই মিছিলে মমতার সঙ্গে পা মেলাবেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি দেবাশিস কুমার-সহ শীর্ষ কাউন্সিলররা। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি বাবলু সিংহ বলেন, “দিদি সবসময় সবাইকে নিয়ে চলতে ভালোবাসেন। এই মনোনয়ন মিছিল আমাদের ঐক্যের প্রতীক।”
এডিটরস ইনসাইট: ভবানীপুরের অলিগলি থেকে আসা মানুষের ভিড় প্রমাণ করবে যে এই আসনটি কেবল ভৌগোলিক নয়, আবেগের দিক থেকেও মমতার দুর্গ। বুধবারের এই মেগা ইভেন্ট ২০২৬-এর নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।





