লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে ফের অগ্নিগর্ভ পশ্চিমবঙ্গ। দিকে দিকে রাজনৈতিক হিংসা, ভাঙচুর এবং হত্যাকাণ্ডের খবরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের পরিবেশ। গত ২৪ ঘণ্টায় জোড়া হামলায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং বসিরহাটে বিজেপি কর্মী রোহিত রায়ের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাপ্রবাহকে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ‘খেলা হবে’ মডেলের প্রতিফলন বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
শুভেন্দুর সহযোগীকে ছক কষে খুন:
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথ রথকে মঙ্গলবার রাতে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় চন্দ্রনাথ গাড়িতে ছিলেন। একটি গাড়ি এবং একটি মোটরবাইক বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাঁর গাড়িকে অনুসরণ করছিল। মাঝপথে একটি গাড়ি চন্দ্রনাথের গাড়ির গতি রোধ করে এবং বাইকে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। চন্দ্রনাথের বুকে দুটি গুলি লাগে, যা তাঁর হৃদপিণ্ড ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে।
বসিরহাটে বিজেপি কর্মীর পেটে গুলি:
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে বিজেপি কর্মী রোহিত রায়কে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। রোহিতের অভিযোগ, এলাকায় বিজেপির পতাকা লাগানোর সময় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিতে গুলি চালায়। একটি গুলি সরাসরি তাঁর পেটে লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এই বিজেপি কর্মী।
বিজেপির পাল্টা হুঁশিয়ারি:
এই জোড়া কাণ্ডে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিজেপি নেতা তরুণ চুঘ। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের হত্যা এবং রোহিত রায়ের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি টিএমসি-র পরিকল্পিত রাজনৈতিক সহিংসতার ‘খেলা হবে’ মডেল।” তিনি আরও যোগ করেন, “একজন অপরাধীকেও রেহাই দেওয়া হবে না। যারা বাংলাকে অশান্ত করতে চায়, তাদের কঠোর সাজা ভোগ করতে হবে। বাংলার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের একমাত্র অগ্রাধিকার।”
বর্তমানে চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, বসিরহাটে বিজেপি কর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী এই হিংসা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার ওপর ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।





