শুভেন্দুর ‘ছায়াসঙ্গী’ খুনে শিউরে উঠছে বাংলা! চন্দ্রনাথ একা নন, রহস্যমৃত্যুর তালিকায় আরও ৩— নেপথ্যে কি বড় ষড়যন্ত্র?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পালাবদলের দামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী এবং ব্যক্তিগত সচিব চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেবল একটি রাজনৈতিক খুন নয়, বরং এর পেছনে গভীর কোনও নীল নকশা রয়েছে বলে আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল। বুধবার রাতে মধ্যগ্রামের কাছে জাতীয় সড়কে যেভাবে গাড়ি থামিয়ে তাঁকে গুলি করা হয়েছে, তা কোনও পেশাদার খুনি বা ‘সুপারি কিলার’-এর কাজ বলেই মনে করছে পুলিশ।

তবে রহস্যের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে অন্য জায়গায়। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা ব্যক্তিদের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম নয়। চন্দ্রনাথের প্রয়াণের পর ফিরে আসছে পুরনো তিনটি চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর স্মৃতি, যা আজও অমীমাংসিত।

তালিকার সেই রহস্যময় ৩ মৃত্যু

  • ১. শুভব্রত চক্রবর্তী (দেহরক্ষী): ২০১৮ সালে কাঁথিতে শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়। নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে গুলি চলার কথা বলা হলেও, সেই মৃত্যু নিয়ে সিআইডি তদন্ত পর্যন্ত হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের চাপে এই মামলাটি বারবার শিরোনামে এসেছে।

  • ২. সাহাবুদ্দিন (ঘনিষ্ঠ কর্মী): মেদিনীপুরের এই কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়েও এক সময় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। শুভেন্দুর ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের তালিকায় তিনিও ছিলেন।

  • ৩. আরও এক ছায়াসঙ্গীর অন্তর্ধান: শুভেন্দুর নিরাপত্তা বলয়ে থাকা আরও এক কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা এই তালিকায় যোগ হয়েছে।

টার্গেট কি আসলে শুভেন্দু নিজেই?

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে এবং তাঁর চারপাশ থেকে বিশ্বস্ত মানুষদের সরিয়ে দিতেই এই ‘টার্গেটেড কিলিং’ শুরু হয়েছে। চন্দ্রনাথ রথ কেবল একজন পিএ ছিলেন না, তিনি প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী ছিলেন এবং শুভেন্দুর রাজনৈতিক লড়াইয়ের রণকৌশল সাজাতেন। শুভেন্দু নিজে বারাসতে দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাঁর সঙ্গীদের রক্তের ঋণ তিনি কড়ায়-গন্ডায় উসুল করবেন।

পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র না রাজনৈতিক প্রতিহিংসা?

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২-৩ দিন ধরে চন্দ্রনাথের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল (রেকি)। বাইকে করে আসা আট জন হামলাকারী নিশ্চিত হতে চেয়েছিল যে গাড়িতে শুভেন্দু নেই, বরং তাঁর প্রধান মস্তিষ্ক চন্দ্রনাথ রয়েছেন। এই নিখুঁত ছক বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ঘাতকরা শুভেন্দুর প্রতিটি পদক্ষেপের খবর রাখত।

বাংলার মসনদে বিজেপির বসার আগের রাতেই এই হত্যাকাণ্ড কি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি তৃণমূল জমানার শেষ মরণকামড়? তদন্তের ভার নিয়েছে সিআইডি, তবে শুভেন্দুর ডেরায় এখন একটাই আতঙ্ক— এর পর কে?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy