বিজেপি জিততেই কেন টার্গেট শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক? ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’-এর নেপথ্যে কোন রাঘববোয়াল?

বাংলার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে এবার খোদ শুভেন্দু অধিকারীর ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। উত্তর ২৪ পরগণার মধ্যমগ্রামে আবাসনের সামনে যেভাবে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে তাঁকে ঝাঁঝরা করা হয়েছে, তাকে ‘সুপরিকল্পিত এবং ঠান্ডা মাথার খুন’ বলে অভিহিত করেছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা। বৃহস্পতিবার বারাসাত হাসপাতালে প্রয়াত ছায়াসঙ্গীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পুলিশের ওপর আস্থা রাখলেও রাজ্যের বিদায়ী শাসকদলকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন শুভেন্দু।

“আগে পুলিশকে কাজ করতে দেওয়া হতো না” এদিন বারাসাত হাসপাতালে আবেগঘন পরিবেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পুলিশ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। কিন্তু আগে পুলিশকে কাজ করতে দেওয়া হতো না। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।” তিনি আরও জানান যে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে রাজ্যের ডিজিপির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ঘটনার কিনারা করতে ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, “স্থানীয় দুষ্কৃতী ছাড়া এলাকার রেইকি করা অসম্ভব। পুলিশের ওপর আমার বিশ্বাস আছে, তারা যথাসময়ে সব জানাবে।”

রেইকি করে অপারেশন: দিল্লি পর্যন্ত খবর ঘটনার দিন রাতেই শুভেন্দু জানিয়েছিলেন যে, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি সন্দেহভাজন গাড়ি এলাকাটি রেইকি করছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা জানত চন্দ্রনাথের গতিবিধি। এই মর্মন্তিক ঘটনার খবর পৌঁছেছে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার স্বয়ং মৃতের পরিবার এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করাও শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

আইজির নেতৃত্বে ‘সিট’ ও ফরেন্সিক তদন্ত তদন্তে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। একজন আইজি (IG) পদমর্যাদার অফিসারের নেতৃত্বে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা ‘SIT’ গঠন করা হয়েছে। এই টিমে রাজ্য পুলিশের বাছাই করা গোয়েন্দাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালেই মধ্যমগ্রামের সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ফরেন্সিক দল। রাস্তার ওপর ছড়িয়ে থাকা গুলির খোল এবং অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘাতকদের শনাক্ত করতে এলাকার সবকটি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর এদিনও তৃণমূল কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের আর কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই।” তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে এই ধরনের হিংসার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বাংলার নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই এই হাই-প্রোফাইল খুনের রহস্যভেদ করা এখন পুলিশের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।