শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুন কাণ্ডে সিবিআইয়ের বিরাট চার্জশিট! ১১ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় অবশেষে ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। চাঞ্চল্যকর এই তদন্তে গোয়েন্দারা দাবি করেছেন যে, উত্তরপ্রদেশ থেকে ভাড়াটে খুনি বা সুপারি কিলারদের এনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ছক কষা হয়েছিল এবং তাদের মোটা অঙ্কের টাকাও দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে এই চার্জশিট পেশের পর থেকেই তীব্র হুলস্থুল শুরু হয়েছে।
সিবিআই সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী হিসেবে বিজেপি কর্মী দুই ভাই সাগর সোনকর এবং সাহেব সোনকরের নাম উঠে এসেছে। কিছুদিন আগেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিলেন। তদন্তে নেমে সিবিআই জানতে পেরেছে যে, ২০২০ সালে এই দুই ভাই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিরোধী দলের এক বিধায়কের হয়ে কাজ করতেন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দল বদল করে তাঁরা এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেন এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে ভাড়াটে খুনিদের নিযুক্ত করে চন্দ্রনাথকে হত্যার সুপারি দেন।
গোয়েন্দাদের বিশদ তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই চন্দ্রনাথ রথকে সরানোর জন্য দীর্ঘ পরিকল্পনা চলছে। খুনের দিনক্ষণ একাধিকবার ঠিক হওয়ার পরেও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা বারবার পিছিয়ে যায়। অবশেষে গত ৬ মে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথকে গুলি করে খুন করা হয়। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের মাত্র দু’দিনের মাথায় এই হাই-প্রোফাইল খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত সিবিআই মোট ছয়জন শ্যুটারকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের নাম—মনু সিং, রাজ সিং, গোলু সিং, মায়াঙ্ক রাজ মিশ্রা, ভিকি মৌর্য এবং নবীন কুমার সিং।
এছাড়াও, খুনের বরাত বা ডিল ঠিক করার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিনয় রায়, সঞ্জয় রায় এবং বিকাশ মিশ্র নামের তিন ‘মিডলম্যান’-কেও জালে তুলেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ধৃতদের একটানা জেরা করে এই হত্যাকাণ্ডের বহু অজানা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর মিলেছে। তবে গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, এই নেপথ্যে আরও অন্য কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত যোগ থাকতে পারে, যা বর্তমানে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার চার্জশিট জমা পড়ার পর এখন এই খুনের আসল উদ্দেশ্য এবং পলাতক এক অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।