এসি অফিসই কি আপনার অসুস্থতার কারণ? বর্ষায় এই ৫ ভুল করলে সর্দি-কাশিতে কাঁপবে পুরো টিম!

বর্ষা এলেই অফিসের চেনা পরিবেশটা কেমন যেন পুরোপুরি বদলে যায়। বাইরে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ, জানলা বন্ধ আর এসি চলছে ফুল স্পিডে। কিন্তু এই মনোরম পরিবেশের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে এক অদৃশ্য বিপদ। অফিসের এক কোণ থেকে ভেসে আসে ঘনঘন হাঁচি-কাশির আওয়াজ। আজ দেখবেন সহকর্মীর জ্বর, আর কাল গোটা টিম একসঙ্গে ছুটিতে! চিকিৎসকরা অবশ্য এটিকে নিছক কোনো কাকতালীয় ঘটনা বলে মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, বর্ষার মরসুমে বন্ধ ঘর, অতিরিক্ত ভিড় আর আর্দ্র পরিবেশের জেরে অফিস চত্বরই ধীরে ধীরে সংক্রমণের সবচেয়ে বড় ‘হটস্পট’ বা আখড়া হয়ে উঠছে।

কেন অফিস হয়ে উঠছে হটস্পট?
বর্ষাকালে গরম এবং বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে আমরা সাধারণত সমস্ত জানলা-দরজা শক্ত করে বন্ধ করে দিই। ফলে ঘরের বদ্ধ বাতাস সহজে বাইরে বের হতে পারে না। ঘরের এক কোণে কারোর হাঁচি বা কাশির ড্রপলেট বায়ুর মাধ্যমে ঘরের মধ্যেই ক্রমাগত ঘুরপাক খেতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় লিফটের বোতাম, অফিসের মূল দরজার হাতল, প্যান্ট্রির ফ্রিজ ও মাইক্রোওভেনের সুইচ এবং প্রিন্টারের বোতাম। দিনে শত শত মানুষ এই জিনিসগুলো স্পর্শ করেন। তারপর সেই একই হাত দিয়ে আমরা অজান্তেই চোখ, নাক বা মুখে হাত দিই, আর ব্যস—রোগের জীবাণু সোজা শরীরে প্রবেশ করে। শুধু তাই নয়, ভেজা ছাতা ও ভেজা জুতো থেকে ঘরে ফাঙ্গাসের জন্ম হয় এবং বসার জায়গাও স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে ওঠে।

অফিসের এই ৫টি জায়গা সবচেয়ে বিপজ্জনক:
১. লিফট এবং দরজার হাতল: এখানে মানুষের সংস্পর্শ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় জীবাণুর ঘনত্বও সর্বোচ্চ থাকে।
২. প্যান্ট্রি জোন: চায়ের কাপ, জলের বোতল এবং ফ্রিজের হাতল নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না।
৩. নিজের ডেস্ক ও গ্যাজেটস: সারাদিন ব্যবহার করা কিবোর্ড, মাউস ও ল্যান্ডলাইন ফোন মাসে একবারও জীবাণুমুক্ত করা হয় না।
৪. অফিসের টয়লেট: কলের মুখ, ফ্ল্যাশের বোতাম এবং দরজার ছিটকিনি মারাত্মক ইনফেকশনের আখড়া।
৫. এসি ভেন্ট: মাসের পর মাস ফিল্টার পরিষ্কার না করার ফলে সেখান থেকে ধুলো ও ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে অ্যাজমা ও সাইনাসের সমস্যা বাড়ায়।

সুস্থ থাকতে আপনার করণীয়:
সবচেয়ে জরুরি হলো হাতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। অফিসে ঢুকে, খাবার খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। ব্যাগে সবসময় একটি ভালো স্যানিটাইজার রাখুন। দ্বিতীয়ত, নিজের ডেস্কটি পরিষ্কার রাখুন এবং সপ্তাহে অন্তত দু’বার জীবাণুনাশক ওয়াইপ দিয়ে কিবোর্ড ও মাউস মুছুন। তৃতীয়ত, ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান। বর্ষার দিনে পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পাশাপাশি ভিটামিন সি যুক্ত ফল খান। চতুর্থত, ভেজা পোশাকে বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না; অফিসে এক জোড়া অতিরিক্ত মোজা ও জুতো রাখুন। পরিশেষে, শরীর খারাপ লাগলে জোর করে অফিসে না এসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম (WFH) করুন। আপনার এই সামান্য সতর্কতা গোটা টিমকে বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

অফিস ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব:
শুধুমাত্র কর্মীরা সচেতন হলেই চলবে না, এইচআর (HR) এবং অ্যাডমিন বিভাগকেও দায়িত্ব নিতে হবে। নিয়মিত এসি ফিল্টার পরিষ্কার করা, কমন এরিয়াগুলো প্রতিদিন স্যানিটাইজ করা এবং হাইব্রিড বা রোটেশনাল ওয়ার্ক পলিসি চালু করার মাধ্যমে সহজেই এই মারাত্মক সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। একটু সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতাই আপনাকে এবং আপনার সহকর্মীদের সুস্থ রাখতে পারে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty