শিল্পীদের অক্লান্ত পরিশ্রমকে কুর্নিশ! নবীন-প্রবীণ থেকে টেকনিশিয়ান—সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে কীসের উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

ধারাবাহিক এবং টেলিভিশনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী, কলাকুশলী, টেকনিশিয়ান ও মেকআপ আর্টিস্টদের জন্য প্রতীক্ষিত টেলি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো। এই জমকালো সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি টেলিভিশনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা নিয়ে এক আবেগময় এবং তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই টেলি জগৎকে একটি পরিবারের উৎসব হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “আমরা সকলেই এক পরিবার। কখনোই ভাগাভাগি করি না। শিল্পীরা, শিশুশিল্পী, প্রবীণ সকলেই থাকেন এখানে, টেকনিশিয়ানরাও।” তিনি জোর দেন যে, মানুষের বিনোদন জীবনে টেলিভিশন আজ এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাঁর কথায়, “টেলিভিশন আমার চোখে সমাজের দর্পণ, হৃদয়ের দর্পণ। টেলিভিশন ছাড়া বহু মানুষের দিন চলে না। তারা এটা দিয়েই সময় কাটান, আনন্দ পান, সামাজিকতা গড়ে তোলেন।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাম্প্রতিক সামাজিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই মাটি স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে, নবজাগরণের জন্ম দিয়েছে। তাঁর মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করা।

“সমাজের বৈচিত্র্যের মাঝেও মানবিক চেতনা, সামাজিক শিক্ষা ছড়াক টেলিভিশনের মাধ্যমে।”

বর্তমানে বেড়ে চলা একাকীত্ব এবং সামাজিক দূরত্বের প্রসঙ্গে তিনি টেলিভিশনকে আশার আলো হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “অনেকেই এখন একা থাকেন। তাদের জীবন যাতে শেষ না হয়ে যায়, টেলিভিশন সেই আশার আলো। সমাজের নতুন চিন্তাধারা, নতুন জীবনদর্শন টেলিভিশনের কনটেন্টে উঠে আসা দরকার।”

মুখ্যমন্ত্রী শিল্পীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার জন্য শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “শিল্পীদের ছুটি থাকে না, উৎসবে পর্যন্ত নিঃশব্দে তারা কাজ করেন, পরিবার-সমাজের আঁচল ছেড়ে সবার ঘরে আনন্দ পৌঁছে দেন।” এদিন তিনি প্রবীণ অভিনেত্রী মাধবী চক্রবর্তী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়-সহ সকলের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেন।

সবশেষে, সকল টিভি চ্যানেল ও কলাকুশলীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু গল্প, গান নয়, সমাজবোধ, মানবিকতা, সম্প্রীতির বীজ বুনুক টেলিভিশন। আসল সাফল্য এখানেই।”