শিয়ালদহ ডিভিশনে বড় স্বস্তি! ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু কমাতে ২৫ জায়গায় মিলল সাবওয়ে তৈরির সবুজ সঙ্কেত

দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে রেললাইন পারাপারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই শিয়ালদহ ডিভিশনে লিমিটেড হাইট সাবওয়ে (LHS) নির্মাণের জট পুরোপুরি কেটে গেছে। এতদিন অ্যাপ্রোচ রোডের অনুমতি না পাওয়ার কারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই সাবওয়ে তৈরির কাজ থমকে ছিল। রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসে রেল কর্তৃপক্ষ এখন ২৫টি জায়গায় এই প্রকল্প রূপায়ণের অনুমতি পেয়েছে। এর মধ্যে সাতটি সাবওয়ে তৈরির কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে।

রেল সূত্রে খবর, শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন সেকশনে এই লিমিটেড হাইট সাবওয়ে তৈরি হলে লাইনের ওপর দিয়ে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত অনেকাংশে কমবে। যে সমস্ত স্থানে এই সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: রাণাঘাট-গেদে সেকশনে আড়ংঘাটা-বহিরগাছির মাঝে এবং বগুলা-বার্ণপুরের মাঝে; লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা সেকশনে কাকদ্বীপ-উকিলের হাটের মাঝে এবং করঞ্জলি-নিশ্চিন্দপুরের মাঝে; কৃষ্ণনগর-শান্তিপুর সেকশনের টালিখোলা-দিগনগর এলাকা; ক্যানিং সেকশনে সোনারপুর-বিদ্যাধরপুরের মাঝে এবং বনগাঁ-পেট্রাপোল সেকশনে বনগাঁ স্টেশনের কাছে।

কেন এই প্রকল্প এতোটা জরুরি? সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এই উদ্বেগের কারণ স্পষ্ট করে দিয়েছে। দেখা গেছে, ২০২৫ সালে শিয়ালদহ ডিভিশনে লাইনে অবৈধভাবে প্রবেশের ফলে মোট ১১০৮টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৯৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৭৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ তার প্রমাণ মেলে ২০২৬ সালের জুন মাসের তথ্যে। এই ছয় মাসে ৫২৯টি দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি রুখতেই রেল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে সাবওয়ে নির্মাণের ওপর জোর দিয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, “আইন সংশোধন করে লাইনে অবৈধ অনুপ্রবেশের জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানার ব্যবস্থা করা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তাই পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় আটকে থাকা এই প্রকল্পগুলো এখন রাজ্যের অনুমোদনের পর দ্রুতগতিতে শুরু হচ্ছে। সুরক্ষিত রেল চলাচল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”

রাজ্য ও রেলের এই সমন্বিত উদ্যোগে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেমন সুগম হবে, তেমনই অকাল মৃত্যুর মিছিলও অনেকটা কমবে বলে আশা করছে সচেতন মহল। রেল দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব দ্রুত এই সাতটি সাবওয়ের কাজ শেষ করে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে, যা শিয়ালদহ ডিভিশনের যাত্রী নিরাপত্তার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।