গোয়ালঘরে বিএড কলেজ, বারান্দায় ফার্মেসি! শিক্ষা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবার কঠোর অবস্থানের পথে রাজ্য সরকার। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা বেসরকারি বিএড, ফার্মেসি এবং ল’ কলেজগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বীরভূমের সিউড়িতে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে ‘জনতার দরবার’-এ এসে মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নামে কোনো প্রকার দুর্নীতি আর বরদাস্ত করা হবে না।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, “আমরা গোয়ালঘরের ঠিকানায় বিএড কলেজ, বারান্দার ঠিকানায় ফার্মেসি কলেজ বা গুমটির ঠিকানায় ল’ কলেজ চলতে দেব না। আইটিআই ও পলিটেকনিক মাফিয়ারা আমার এই বার্তা ভালো করে বুঝে নিন।” তাঁর অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে রাজ্যে একটি অশুভ চক্র গড়ে উঠেছিল। কাঁচা টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস, দেখে লেখার সুযোগ দেওয়া এবং প্রশাসনের নজরদারি এড়ানোর জন্য নিয়মিত মাসোহারা দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। এই অনৈতিক কারবার ভাঙাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
এই অনিয়ম রুখতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-কে চিঠি লিখে রাজ্যের ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫০০-র বেশি কলেজকে অডিটের আওতায় আনার অনুরোধ জানিয়েছে। মন্ত্রী জানান, প্রতিটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে সরকারের থেকে এনওসি (NOC) পেয়েছিল এবং বর্তমানে পঠনপাঠনের পরিবেশ কেমন, তা খুঁটিয়ে দেখা হবে। ডিগ্রি বিক্রির কোনো ব্যবসায়িক মডেল এখানে চলবে না। যতক্ষণ না এই অডিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ রাজ্যে নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের অনুমোদন দেওয়া হবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি এদিন শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়েও মুখ খুলেছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, গত কয়েক দশকে শিল্পবিরোধী পরিবেশের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ৩৪ বছর বাম আমলের ইউনিয়নের দাপাদাপি আর গত ১৫ বছর ধরে সিন্ডিকেট ও কাটমানির দৌরাত্ম্যে রাজ্যে শিল্প আসেনি। তবে এবার সেই ব্যবস্থা বদলাতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শিল্পপতিদের সাথে সরাসরি কথা বলে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করেছেন। সরকার কেবল শিল্পের বাইরের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, বাকি দায়িত্ব সংস্থাগুলোর। মন্ত্রীর আশ্বাস, আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যেই রাজ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার বড় বিনিয়োগ আসতে চলেছে। শিক্ষার পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রে এই নতুন জোয়ার রাজ্যে কর্মসংস্থানের এক বিশাল সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।