শিয়ালদহ ও সুকান্ত সেতুতে হকার উচ্ছেদের তোড়জোড়! সরকারি নোটিশ ঘিরে তুমুল শোরগোল

কলকাতার শিয়ালদহ ফ্লাইওভার ও সুকান্ত সেতুর তলার চিত্রটা গত কয়েক বছরে কার্যত একচেটিয়া হকার-রাজ্যে পরিণত হয়েছে। রাস্তা তো দূরের কথা, ফুটপাতে পা ফেলার মতো জায়গাও নেই। এই পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাদা কাগজে ইংরেজিতে ও বাংলায় লেখা কিছু উচ্ছেদ নোটিশ নজরে আসায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এই নোটিশগুলোর কোনো সরকারি সিলমোহর বা স্বাক্ষর নেই। এই রহস্যময় নোটিশ নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে ধোঁয়াশা থাকলেও, স্থানীয় হকারদের মধ্যে সিঁদুরে মেঘ দেখা দিয়েছে।
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই উচ্ছেদ নোটিশের ছবি পোস্ট করতেই জল্পনা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। প্রশাসনের অন্দরের খবর, সম্প্রতি টিভিসি (TVC) বৈঠকে অবৈধ হকারদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই আবহে সরকারি স্বাক্ষরহীন এই নোটিশগুলোকে কেউ কেউ ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখছেন। শিয়ালদহ ফ্লাইওভারের পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ। হাসপাতালের দেওয়াল দখল করে প্লাস্টিকের ছাউনি, রাস্তার ওপর উনুন জ্বালিয়ে অস্থায়ী হোটেল—সব মিলিয়ে আগুনের ঝুঁকি সেখানে সবসময়ই তুঙ্গে।
হকারদের একাংশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, পেটের ভাত মারবেন না। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ করলে তাঁরা কোথায় যাবেন? তবে টিভিসি-র এক সদস্যের বক্তব্য অনুযায়ী, হকারদের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। আইন মেনে ব্যবসা করা বৈধ হকারদের উচ্ছেদের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে অবৈধ জবরদখলকারীদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁদের পুনর্বাসনের কথা ভাবা হলেও, তার জন্য থানার রিপোর্টের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে তাঁরা ওই এলাকার আদি বাসিন্দা কি না এবং কতদিন ধরে সেখানে ব্যবসা করছেন।
প্রশ্ন উঠছে, কে লাগাল এই নোটিশ? শিয়ালদহ ফ্লাইওভার বা সুকান্ত সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের পথে হকারদের দৌরাত্ম্য কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ নাগরিকরা সরব। এবার সেই চাপ আর প্রশাসনিক কড়াকড়ির ফলে এই এলাকাগুলো কি হকারমুক্ত হবে? সেটাই এখন দেখার বিষয়।