শিক্ষক দিবসের ঠিক আগেই জম্মু ও কাশ্মীর পেল এক বড় সম্মান। জিন্দ্রা এলাকার সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক কুলদীপ গুপ্তা আগামী ৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পেতে চলেছেন জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৩। শিক্ষা খাতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার জম্মু ও কাশ্মীরের মুকুটে এক নতুন পালক যোগ করল।
কে এই কুলদীপ গুপ্তা?
৫৭ বছর বয়সী কুলদীপ গুপ্তা বিষ্ণা গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানে তাঁর আগ্রহ ছিল। জুলজিতে মাস্টার্স এবং এরপর এম.এড সম্পন্ন করে ১৯৯২ সালে তিনি শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। তার বাবা বানারসি লাল গুপ্তা ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় কর্মরত ছিলেন।
শিক্ষকতায় নতুন দিগন্ত
শিক্ষকতার গত ৩০ বছরে কুলদীপ শুধুমাত্র প্রথাগত শিক্ষাদান করেননি। তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানো উচিত। ১৯৯৫ সালে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সাতওয়ারিতে পোস্টিং পাওয়ার পর তিনি নিজস্ব পদ্ধতিতে বিজ্ঞানকে সহজভাবে উপস্থাপনা করেন। তাঁর মতে, “আমি চাই শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানে আগ্রহী হোক, যাতে তাদের জ্ঞানের বিকাশ হয়।”
কুলদীপ সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘চিলড্রেনস সায়েন্স কংগ্রেস’ জনপ্রিয় করে তোলেন। ২০০০ সালের আগে এই প্রতিযোগিতায় মূলত বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরাই অংশ নিত, কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টায় সরকারি স্কুলও এতে যুক্ত হয়। তিনি বলেন, “আমরা চাইতাম, বইয়ের বাইরেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনোভাব গড়ে উঠুক।”
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান
২০০৯ সালে তিনি জম্মু অঞ্চলের চিলড্রেনস সায়েন্স কংগ্রেসের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর হন। ২০১৭ সালে তিনি স্টেট কাউন্সিল ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (SCERT) এবং জেলা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (DIET) এর রিসোর্স পারসন হিসেবে ১৫০০-এরও বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেন।
তিনি তার ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে ১০টি স্কুলে কাজ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক মনোভাব তৈরি করতে ‘কবার সে জুগাড়’ (ফেলে দেওয়া জিনিস থেকে নতুন কিছু বানানো) পদ্ধতি চালু করেন। তাঁর এই পদ্ধতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী আবার স্কুলে ফিরতেও এসেছে। কুলদীপ তাঁর এই সাফল্যের জন্য শিক্ষার্থী, সহকর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।