শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর তীব্র অভাবে ধুঁকছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়! দুই দশক পর শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ কর্তৃপক্ষের

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। ঘাটতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এই গুরুতর সঙ্কট কাটাতে অবশেষে শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সিন্ডিকেট বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে এই নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সঙ্কটের ভয়াবহ চিত্র

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্যপদের চিত্রটি খুবই উদ্বেগজনক:

  • শিক্ষক পদ: বর্তমানে মোট ৮৬০টি শিক্ষক পদ রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫৫টি পদ (প্রায় অর্ধেক) ফাঁকা পড়ে আছে।

  • শিক্ষাকর্মী পদ: শিক্ষাকর্মীদের প্রায় ৫ হাজার পদ রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে কর্মরত মাত্র ১ হাজার ৫০০ জন কর্মী। অর্থাৎ, ৭০ শতাংশেরও বেশি শূন্যপদ রয়েছে।

উল্লেখ্য, শেষবার শিক্ষাকর্মী নিয়োগ হয়েছিল ২০০৫-০৬ সালে। দীর্ঘদিন নিয়োগ না-হওয়ায় বিভিন্ন শাখা ও দফতরে কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার উদ্যোগ ও সতর্কতা

সিন্ডিকেট বৈঠকে সদস্যরা দ্রুত শূন্যপদ পূরণের পক্ষে মত দেন, কারণ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষকের ঘাটতি এতটাই প্রকট যে পড়াশোনার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমবিএ, জার্নালিজম ও নিউরোসায়েন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বর্তমানে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন।

  • প্রথম ধাপ: বিশ্ববিদ্যালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে শিক্ষক নিয়োগ শুরু করা হবে। সেই প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলে এরপর শিক্ষাকর্মীদের স্থায়ী পদে নিয়োগ শুরু করা হবে।

  • আইনি সতর্কতা: কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা এড়াতে সতর্কতা বাড়িয়েছে। যেহেতু জাতিসংরক্ষণ সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তাই রিজার্ভেশন নীতির প্রতি সম্মান রেখে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, নতুন করে বিজ্ঞপ্তি না-দিয়ে ২০২২ সালের শেষে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বাকি থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে চাইছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন নিয়োগ চালু হলে দীর্ঘদিনের সঙ্কট কাটবে এবং শিক্ষার মানে ফের গতি আসবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy