শিকলে বেঁধে ৪ ঘণ্টা মারধর, জোর করে প্রস্রাব পান! মধ্যপ্রদেশে দলিত যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড়

উৎসবের আবহে মধ্যপ্রদেশের ভিন্ডে শহরে ঘটল এক চরম অমানবিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। দীপাবলির রাতে এক দলিত যুবককে শিকলে বেঁধে বেধড়ক মারধর করার পর তাঁকে জোর করে প্রস্রাব পান করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনা সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

নির্যাতিত যুবক অজুদ্দিপুরার বাসিন্দা এবং গোয়ালিয়রে গাড়ি চালান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার গুরুত্বের বিচারে ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।

৪ ঘণ্টা ধরে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
নির্যাতিত যুবকের অভিযোগ, বিগত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্ত তিন যুবক তাঁকে একটি জিপ চালানোর জন্য জোর করছিল, কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। এই ক্ষোভে সোমবার তারা প্রথমে নির্যাতিতর গ্রামের বাড়ি পৌঁছয়। সেখান থেকে তাঁর গোয়ালিয়রে থাকার খবর পেয়ে অভিযুক্তরা সেখানে যায়।

দলিত যুবকটিকে গাড়িতে তুলে ভিন্ডের দিকে রওনা দেয় অভিযুক্তরা। সিনারপুরা পৌঁছনোর পর গাড়ি থামিয়ে প্রথমে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং জোর করে প্রস্রাব পান করানো হয় বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়, এরপর নির্যাতিতকে এক অভিযুক্তের বাড়ি নিয়ে গিয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং টানা ৪ ঘণ্টা ধরে মারধর করা হয়।

ভীম বাহিনীর প্রতিবাদে তৎপর পুলিশ
নির্যাতিত যুবক প্রথমে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে অভিযোগ, পুলিশ তাঁর কথা শুনতে চায়নি। এরপর ঘটনার প্রতিবাদে ভীম সংগঠনের নেতারা সুরপুরা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ভীম বাহিনীর চাপের মুখেই পুলিশ মামলা দায়ের করে এবং দ্রুত তিন অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

তবে অভিযুক্তদের পরিবারের দাবি, তাদের ভুল করে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এক অভিযুক্তের দাদা জানান, তাঁর ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং নির্যাতিতর সঙ্গে কেবল কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলিতে চোর সন্দেহে এক দলিত ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। এই পরিস্থিতিতে ভিন্ডের ঘটনাটি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে দলিতদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগকে আরও জোরালো করল।