লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই লক্ষ্যভেদে অসমের মাটিকেই রণক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার অসমের পাথরকান্দির জনসভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কার্যত ‘শাহি-তোপ’ দাগলেন তিনি। শাহের সাফ কথা, “ভারত কোনো ধর্মশালা নয় যে যে কেউ ঢুকে পড়বে।”
অনুপ্রবেশমুক্ত বাংলা ও উত্তর-পূর্বের প্রতিশ্রুতি
অমিত শাহ এদিন দাবি করেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন:
“একবার বাংলায় বিজেপির সরকার তৈরি হলে, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়—অসম এবং ত্রিপুরা থেকেও বেছে বেছে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এবারের পরিবর্তন কেউ আটকাতে পারবে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের মদতেই বরাক উপত্যকা, শিলচর এবং কাছাড় জেলার জনবৈচিত্র বদলে গিয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
হিমন্ত-পত্নী বিতর্ক ও রাহুলকে পাল্টা
সম্প্রতি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রী রিঙ্কি ভুঁইয়া শর্মার বিদেশি পাসপোর্ট ও সম্পত্তি নিয়ে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা যে বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। রাহুল গান্ধী হিমন্তকে ‘দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করায় পালটা আক্রমণ শানান শাহ। তিনি বলেন, রাহুলের হাতে নেতৃত্ব যাওয়ার পর থেকেই কংগ্রেসের মান ও ভাষা— দুই-ই নিচে নেমেছে।
খাড়গে ও যুব কংগ্রেসকে নিশানা
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শাহ বলেন, “খাড়গেজি গুজরাতের ভোটারদের অশিক্ষিত বলে অপমান করেছেন।” শুধু তাই নয়, দিল্লিতে এআই (AI) সম্মেলনে যুব কংগ্রেস কর্মীদের প্রতিবাদী আচরণকে রাহুলের ‘বাঘের বাচ্চা’ বলাকেও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। শাহের মতে, এই ধরণের মন্তব্যই প্রমাণ করে কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবে কতটা দেউলিয়া হয়ে পড়েছে।
এডিটরস নোট: লোকসভা ভোটের আবহে শাহের এই মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





