শাহরুখের ‘কয়লা’য় সেটে কী ঘটেছিল? ‘কাপড় খুলেছি’ অপবাদে ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী, ২৮ বছর পর ফাঁস করলেন আসল সত্য!

১৯৯০-এর দশকে বলিউডে পারিবারিক বিনোদনমূলক ছবিই ছিল মূল স্রোত। সেই সময় দাঁড়িয়ে পরিচালক রাকেশ রোশন তাঁর ১৯৯৭ সালের ছবি ‘কয়লা’-তে কিছুটা সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ছবিতে শাহরুখ খান ও মাধুরী দীক্ষিতের জুটি আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল। তবে, এই ছবির একটি বিশেষ দৃশ্য সে সময় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, যার কেন্দ্রে ছিলেন অভিনেত্রী দীপশিখা নাগপাল। দৃশ্যে তাকে ‘পোশাক খুলতে’ দেখা গিয়েছিল বলে সমালোচকরা মন্তব্য করেছিলেন, যার ফলে অভিনেত্রীকে বিপুল জনরোষের মুখে পড়তে হয়।
সেই বিতর্কিত দৃশ্যের ২৮ বছর পর, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা ফের তুলে ধরেছেন দীপশিখা।
“আমি জিজ্ঞেস করলাম, কখন সেই দৃশ্যের শ্যুটিং হবে?”
‘হিন্দি রাশ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘কয়লা’ ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মুখ খোলেন দীপশিখা। তিনি জানান, স্ক্রিপ্ট পড়ে তিনি নিজেই অবাক হয়েছিলেন এবং রাকেশ রোশন কীভাবে দৃশ্যটির শ্যুটিং করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে।
দীপশিখা বলেন, “আমি রাকেশ স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কখন আমরা সেই দৃশ্যের শ্যুটিং করব?’ তিনি উত্তরে বললেন, ‘তোমার সব মনে আছে?’ আমি বললাম, ‘অবশ্যই’।”
শ্যুটিংয়ের দিন মায়ের সামনেই কৌশল ফাঁস করলেন অভিনেত্রী
অভিনেত্রী স্মরণ করেন, দৃশ্যটি নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল, তখন তাঁর মা শ্যুটিং সেটে উপস্থিত ছিলেন।
দীপশিখা তাঁর মাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “চিন্তা কোরো না।” এরপর তিনি রাকেশ রোশনকে দৃশ্যটি শ্যুট করার কৌশল ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমি রাকেশ স্যারকে বলেছিলাম, ক্যামেরা শোল্ডার লেভেলে রাখতে, যাতে আমার টিউব টপ দেখা না যায়। ওই অ্যাঙ্গেল থেকে দেখলে মনে হবে আমি যেন পোশাক খুলছি, কিন্তু আমি কিন্তু পুরো পোশাকেই ছিলাম।”
পিছন থেকে শট নেওয়ার সময় অভিনেত্রী একটি সুইমস্যুট পরেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, শ্যুটিং শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি জিন্স পরা ছিলেন এবং শ্যুটিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। দৃশ্যটি এত সহজে শ্যুট হয়ে যাওয়ায় রাকেশ রোশন নিজেই বিস্মিত হন।
“প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকলে রাজি হতাম না”
দীপশিখা এই দৃশ্যের সফল শ্যুটিংয়ের জন্য নিজের প্রযুক্তিগত বোঝাপড়াকেই কৃতিত্ব দেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি জানতাম শ্যুটিংয়ের সময় আমি সম্পূর্ণ পোশাকে ছিলাম, কিন্তু দৃশ্যটি দেখলে মনে হবে আমি যেন পোশাক খুলছি। যদি আমার সেই প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকত, তাহলে আমি কখনওই এই দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হতাম না।”
“এই একটি জিনিসই আমার গোটা কেরিয়ারকে ঢেকে দিয়েছিল”
ছবি মুক্তির পর দৃশ্যটি নিয়ে প্রবল হইচই শুরু হয়। জনরোষের কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী বলেন, “সে সময় প্রবল তোলপাড় হয়েছিল। আমার কাছের লোকেরাও বলতে শুরু করল, ‘এ কী করেছ তুমি? তুমি তো অনস্ক্রিনে কাপড় খুলে ফেলেছ।’ এঁরা আমার নিজের লোক ছিলেন, আর এসব শুনে আমি প্রায়ই কাঁদতাম।”
একটি ব্যক্তিগত কষ্টের মুহূর্ত মনে করে দীপশিখা বলেন, “আমার মনে আছে, আমার মেয়ে ‘কয়লা’ ছবির সিডি ভেঙে ফেলেছিল। আমি ভাবতাম, ‘আমি এ কী করলাম?’ মনে হতো, এই একটি ঘটনাই যেন আমার পুরো কেরিয়ারকে ছাপিয়ে গেছে। লোকেরা এটাকে খুবই লজ্জাজনক একটা বিষয় বানিয়েছিল… এমন একটা বিষয়, যার জন্য হয়তো আমার নিজের সন্তানেরাও আমাকে সম্মান করবে না।”
উল্লেখ্য, এই বিতর্কিত দৃশ্যে দীপশিখার সঙ্গে সেই সময়ের প্রবীণ অভিনেতা আমরীশ পুরীও (তৎকালীন ৬৫ বছর বয়স) ছিলেন। সেই সময় দীপশিখার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর।