শালীনতার সীমা লঙ্ঘন? প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বির্তকিত মন্তব্য করে চরম বিপাকে কংগ্রেস সভাপতি খাড়্গে

লোকসভা ভোটের আবহে এবার বড়সড় আইনি বিপাকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে “সন্ত্রাসবাদী” মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে শোকজ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজের এই বিতর্কিত বয়ানের ব্যাখ্যা দিতে হবে খাড়্গেকে।

কী ঘটেছিল?

মঙ্গলবার তামিলনাড়ুতে এক প্রচার চলাকালীন এআইএডিএমকে (AIADMK) এবং বিজেপির জোটের সমালোচনা করতে গিয়ে মেজাজ হারান খাড়্গে। তিনি বলেন, “কী ভাবে ওরা মোদীর সঙ্গে জোট করে? উনি একজন সন্ত্রাসবাদী। উনি বা ওঁর দল সাম্য ও ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী নয়।” কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।

কমিশনের কড়া অবস্থান

বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ জমা পড়ার পরেই নড়েচড়ে বসে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে:

  • দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরণের শব্দ ব্যবহার করে রাজনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন খাড়্গে।

  • নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দাখিল করতে হবে।

  • সন্তোষজনক উত্তর না মিললে কমিশনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

খাড়্গের সাফাই

বিতর্ক শুরু হতেই সুর বদলেছেন কংগ্রেস সভাপতি। পরে তিনি সাফাই দিয়ে বলেন, তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদী সবসময় বিরোধী দলগুলিকে “হুমকি দেন” এবং ভয় দেখান। তিনি সরাসরি কাউকে “সন্ত্রাসবাদী” বলেননি বলেই দাবি করেন খাড়্গে। যদিও কমিশনের পাঠানো নোটিসে তাঁর আগের বয়ান নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

বিজেপির দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে কংগ্রেস সভাপতি ভারসাম্য হারিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এক নজরে ঘটনাপ্রবাহ:

  • অভিযোগ: প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলায় নির্বাচন কমিশনের নোটিস।

  • সময়সীমা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব তলব।

  • প্রেক্ষাপট: তামিলনাড়ুতে নির্বাচনী জোট নিয়ে মন্তব্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy