শহিদ দিবসের মঞ্চ ভাঙাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম! খোদ হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য পুলিশ

রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়িয়ে কালীঘাটে তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে খোদ বিচারপতির ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন। আদালতের এই কড়া পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
সোমবার গভীর রাতে শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বিড়লা তারা মণ্ডলের সামনে অবস্থিত কালীঘাটের তৃণমূলের নির্ধারিত শহিদ দিবসের মঞ্চটি ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই আকস্মিক ও বিতর্কিত ভাঙচুরের ঘটনার পরেই শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের অভিযোগ, আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন পর্যাপ্ত সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থাই করেনি। আইনশৃঙ্খলা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশকর্মীও ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে তৎকালীন বা বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি এই ঘটনার দ্রুত পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা চেয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, লালবাজারের যুগ্ম পুলিশ কমিশনারকে অবিলম্বে জানাতে হবে যে এই বেআইনি বা অনভিপ্রেত ভাঙচুরের ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন সুনির্দিষ্টভাবে কী কী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে লালবাজারের কাছে বিস্তারিত এবং সন্তোষজনক জবাব তলব করেছেন বিচারপতি। আদালতের এই কঠোর নজরদারির ফলে রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।