শহরজুড়ে উৎসবের মেজাজ, মহালয়ার আগেই দুর্গোৎসবে মাতল কলকাতা, একাধিক পুজো উদ্বোধনে মমতা

মহালয়ার আগেই কলকাতার বাতাসে উৎসবের আমেজ। শনিবার থেকেই শহরের বিভিন্ন মণ্ডপের দুর্গাপূজা উদ্বোধন শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিনেই তাঁর সূচিতে ছিল উত্তর কলকাতার তিনটি বড় মণ্ডপ— হাতিবাগান সর্বজনীন, টালা প্রত্যয় এবং শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কার্যত শুরু হয়ে গেল বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পুজো যাত্রার শুরু করেন হাতিবাগান সর্বজনীনের উদ্বোধন করে। এরপর টালা প্রত্যয়ের আলো জ্বালিয়ে উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেন। সবশেষে তিনি যান লেকটাউনের জনপ্রিয় শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে, যা প্রতি বছর তার অভিনব থিম ও আলোকসজ্জার জন্য পরিচিত। উদ্বোধনের মুহূর্ত থেকেই শ্রীভূমির মণ্ডপে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়।

আগামী রবিবার মহালয়ার দিনেও মুখ্যমন্ত্রী একাধিক নামজাদা পুজোর উদ্বোধন করবেন। তিনি প্রথমে নজরুল মঞ্চে দলের মুখপত্র ‘জাগোবাংলা’-র উৎসব সংখ্যা প্রকাশ করবেন। এরপর দক্ষিণ কলকাতার ৯৫ পল্লি, যোধপুর পার্ক, বাবুবাগান এবং সেলিমপুর পল্লির মতো পুজো মণ্ডপগুলিতে যাবেন। নাকতলা উদয়ন সংঘের উদ্বোধন তিনি ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন।

এছাড়াও, বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ চেতলা অগ্রণীর উদ্বোধন তাঁর সূচিতে রয়েছে। ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতি বছরই তিনি এই মণ্ডপে স্বহস্তে প্রতিমার চোখ আঁকেন এবং সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পুজো উদ্বোধন করেন।

আবহাওয়া দফতর মহালয়ার দিন দুপুর থেকে শহরে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও, উদ্যোক্তারা আশাবাদী যে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের কারণে আগেভাগেই দর্শনার্থীদের ভিড় শুরু হয়ে যাবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনও প্রস্তুত। পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু থাকবে এবং ট্র্যাফিক ব্যবস্থা মসৃণ রাখার জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হবে। শহরের আকাশে মেঘ থাকলেও, এখন শহরবাসীর মনে কেবল উৎসবের রঙ।