শহরজুড়ে আর চলবে না ‘পার্কিং মাফিয়া’র দাপট! অগ্নিমিত্রা পলের কড়া নির্দেশে কাঁপছে জালিয়াতরা

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই জনপরিষেবা ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করল নতুন সরকার। দীর্ঘ ১৫ বছরের পুঞ্জীভূত জঞ্জাল আর ‘পার্কিং মাফিয়া’দের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে এবার আসরে নামলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শহরবাসীর হাঁটাচলার পথে কোনো বাধা বা বেআইনি পার্কিং আর বরদাস্ত করা হবে না।

পার্কিং মাফিয়াদের দাপট রুখতে কড়া পদক্ষেপ:
কলকাতার মেইন রোড থেকে শুরু করে পাড়ার অলিগলি—যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা তোলার যে ‘সিন্ডিকেট’ রাজ চলত, তা আজ থেকেই বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। এতদিন পার্কিংয়ের নামে ভুয়ো স্লিপ দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হতো, যার একটি টাকাও সরকারি কোষাগারে যেত না। অভিযোগের তির ছিল সরাসরি পূর্বতন শাসকদলের ক্যাডারদের দিকে। অগ্নিমিত্রা পল সাফ জানান, “পার্কিং নিয়ে এই জালিয়াতি আজ থেকেই বন্ধ। যেখানে সরকারের নির্দিষ্ট অনুমতি থাকবে, সেখানেই কেবল গাড়ি রাখা যাবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রতিটি পার্কিং লটের জন্য সরকার একটি নির্দিষ্ট ‘রেট চার্ট’ বা ভাড়ার তালিকা করে দিচ্ছে। নির্ধারিত হারের বাইরে এক পয়সা বেশি চাইলেই নেওয়া হবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা। পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পার্কিং স্লটটি চিরতরে বাতিল করে দেওয়া হবে।

প্রযুক্তির সাহায্যে শহর হবে জঞ্জালমুক্ত:
শহরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে নতুন সরকার। জঞ্জাল সমস্যা মেটাতে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করার কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। এই অ্যাপে থাকবে আধুনিক ‘জিও-ট্যাগিং’ প্রযুক্তি। রাস্তার কোথাও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখলে সাধারণ মানুষ ছবি তুলে ওই অ্যাপে আপলোড করলেই কাজ শুরু হবে। অভিযোগ পৌঁছনোর মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে পুরসভার কর্মীরা সেই নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে এলাকা পরিষ্কার করবেন। মন্ত্রীর কথায়, “গত ১৫ বছর ধরে আমরা শুধু কলকাতার ড্রেন আর রাস্তাঘাটের চূড়ান্ত নোংরা অবস্থা দেখে এসেছি। সেই দিন এবার শেষ। কলকাতাকে প্রকৃত অর্থেই তিলোত্তমা করে গড়ে তোলা হবে।”

নারী ও শিশু সুরক্ষায় অভিন্ন হেল্পলাইন:
নাগরিক পরিষেবাকে আরও সুগম করতে একটি বিশেষ কল সেন্টার বা হেল্পলাইন নম্বর চালু করছে রাজ্য সরকার। পুরোন্নয়ন সংক্রান্ত সমস্যা থেকে শুরু করে নারী ও শিশু সুরক্ষার বিষয়েও এই একটি নম্বরেই ফোন করা যাবে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে শিশুদের জন্য আলাদা হেল্পলাইন থাকলেও মহিলাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। তাই শিশুদের জন্য বরাদ্দ নম্বরের সঙ্গেই আপাতত মহিলাদের বিষয়টি যুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকে ফোন রিসিভ করে সমস্যা অনুযায়ী তা নির্দিষ্ট বিভাগে পাঠিয়ে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নতুন সরকার একের পর এক জনমুখী সিদ্ধান্ত নিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, সাধারণ মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে অগ্নিমিত্রা পলের এই বহুমুখী উদ্যোগ শহরবাসীকে এক নতুন এবং নিরাপদ আগামীর স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy