শরীরে উল্কি থাকলে কি সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞা? জেনে নিন কোন বিভাগে ছাড় মিলবে!

বর্তমান প্রজন্মের ফ্যাশন ট্রেন্ডে ‘ট্যাটু’ বা উল্কি এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আপনি যদি সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে এই ফ্যাশনের নেশায় পা বাড়ানোর আগে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেরই ধারণা, সরকারি চাকরিতে ট্যাটু সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি ঠিক কেমন? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
সরকারি চাকরিতে কেন ট্যাটু নিয়ে কড়াকড়ি? সরকারি দপ্তরে পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং মার্জিত ভাবমূর্তি বজায় রাখাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং আপত্তিকর প্রতীক বা রাজনৈতিক বার্তা এড়িয়ে চলার জন্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে শরীরজুড়ে ট্যাটু করাকে অনুৎসাহিত করা হয়। চাকরিপ্রার্থীদের সবসময় পরামর্শ দেওয়া হয়, যদি ট্যাটু থাকেও, তবে তা যেন পোশাকের নিচে ঢাকা থাকে।
কোন কোন চাকরিতে ট্যাটুর অনুমতি মিলবে?
নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কিছু বিভাগে ট্যাটু থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকে:
শিক্ষকতা ও ক্লারিকাল পোস্ট: এই ধরনের চাকরিতে ট্যাটু গ্রহণযোগ্য, তবে শর্ত একটাই—তা যেন মার্জিত হয় এবং পোশাকের বাইরে থেকে দৃশ্যমান না হয়।
সশস্ত্র বাহিনী (আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স): এখানে নিয়ম কিছুটা শিথিল। হাতের তালুর পেছন দিক বা কনুইয়ের নিচে ছোট ট্যাটুর অনুমতি মেলে। তবে ঘাড় বা মুখের মতো দৃশ্যমান স্থানে ট্যাটু থাকলে সরাসরি অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে।
পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী (BSF, CRPF, CISF, ITBP): শরীরের ঢাকা অংশে থাকা ছোট ও মার্জিত ট্যাটু এই বাহিনীগুলোতে সাধারণত অনুমোদিত।
রেলওয়ে, এসএসসি ও ব্যাঙ্কিং: এই ক্ষেত্রগুলোতেও দৃশ্যমান এবং আপত্তিকর ট্যাটু কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে পোশাকের নিচে ঢাকা থাকা মার্জিত ট্যাটু হলে সাধারণত সমস্যা হয় না।
ট্যাটু সরিয়ে কি চাকরি পাওয়া সম্ভব? হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব। যদি শারীরিক পরীক্ষার (Medical Test) সময় ট্যাটুটি আর দৃশ্যমান না থাকে, তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। লেজার বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ট্যাটু তোলার পর যদি সামান্য দাগ থেকে যায়, তবে কর্তৃপক্ষ সাধারণত তা মেনে নেয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, আগের ট্যাটুটি যেন ঘাড় বা মুখের মতো অতি সংবেদনশীল স্থানে না থাকে।