শপথের প্রথম সপ্তাহেই অ্যাকশন মোডে শুভেন্দু অধিকারী! চা বাগান থেকে পাহাড়ের উন্নয়ন, উত্তরের জন্য কী বড় চমক?

পশ্চিমবঙ্গের মসনদে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদল ঘটার পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর প্রথম এক সপ্তাহেই তাঁর কাজের গতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেখে কার্যত তাক লেগে গিয়েছে রাজ্যবাসীর। নবান্নের রাশ শক্ত হাতে ধরার পর এবার আজ, সোমবার প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উত্তরবঙ্গ সফরে পা রাখছেন তিনি। আর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম উত্তর সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের বিজেপি কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে আপামোর জনসাধারণের উৎসাহ এবং প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে, ধুঁকতে থাকা উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলির পুনরুজ্জীবন এবং চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা সমাধানে নতুন সরকারের ঠিক কী পরিকল্পনা রয়েছে, তা আজ স্পষ্ট হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা বৈঠক থেকে।

নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সোমবার সকালেই শিলিগুড়ি পৌঁছাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকাল ১০টা নাগাদ তাঁর বিমান বাগডোগরা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখান থেকে সড়কপথে রওনা দিয়ে সকাল ১১টায় তিনি শিলিগুড়ির মল্লাগুড়ির টি অকশন রোডে অবস্থিত বিজেপি শিলিগুড়ি (অর্গানাইজেশন) জেলা কার্যালয়ে যাবেন এবং দলীয় সতীর্থদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর দুপুর ১২টায় তিনি পৌঁছাবেন উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর ‘উত্তরকন্যা’-য়। মুখ্যমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল আগমনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জোরকদমে সেজে উঠেছে উত্তরকন্যা চত্বর। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা গোটা এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে মূল বৈঠকের চূড়ান্ত প্রস্তুতি—সব কাজই শেষ মুহূর্তে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সম্পন্ন হয়েছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম সফরকে ঘিরে শিলিগুড়ির প্রশাসনিক মহলেও তৎপরতা এখন চরম শিখরে।

উত্তরকন্যার এই অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে পাহাড় ও সমতলের একাধিক জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহার—উত্তরের এই পাঁচ জেলার বিধায়ক, পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের সমস্ত শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন শুভেন্দু অধিকারী। সামনেই বর্ষাকাল, তাই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের ভৌগোলিক দুর্যোগ যেমন—বন্যা, আচমকা হড়পা বান, পাহাড়ের মারাত্মক ভূমিধস এবং নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রত্যন্ত এলাকার চিকিৎসা পরিষেবা এবং চা বাগানের সামগ্রিক সমস্যা নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে। একই সঙ্গে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকার বেআইনি নির্মাণ, জমি মাফিয়া এবং বালি-পাথর মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া পূর্বতন সরকারের আমলে তৈরি হওয়া এসজেডিএ, জিটিএ, জেলা পরিষদ এবং পুরসভাগুলির অচলাবস্থা ও দুর্নীতি দূর করার বিষয়টিও এই বৈঠকের এজেন্ডায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

তবে এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক হলো রাজনৈতিক সৌজন্য ও সমন্বয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তরকন্যার এই মেগা বৈঠকে ক্ষমতাসীন বিজেপি বিধায়কদের পাশাপাশি বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে উত্তরবঙ্গের থমকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই যে নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য, এই আমন্ত্রণের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাহাড় ও ডুয়ার্সের উন্নয়ন থমকে থাকা প্রকল্পগুলির জট কাটাতে তিনি আজ বিশেষ কোনো বড় ঘোষণা বা আর্থিক প্যাকেজের বার্তা দিতে পারেন। আজকের এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের নবনিযুক্ত ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকেরও। ফলে স্বাভাবিকভাবেই, এই সফর ঘিরে সমগ্র রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এবং শুভেন্দু অধিকারী আজ কী বার্তা দেন, সেদিকেই চোখ রয়েছে গোটা বাংলার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy