বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং করমর্দন করলেন, তখন গোটা বিশ্বের নজর ছিল সেই মুহূর্তের দিকে। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্পের এই প্রথম চীন সফর ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। বুধবার রাতে বেইজিংয়ে পা রাখার পর তাকে যে রাজকীয় লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তা থেকেই পরিষ্কার ছিল যে জিনপিং প্রশাসন এই সফরকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠক যখন শুরু হয়, তখন নির্ধারিত সময় ছিল মাত্র এক ঘণ্টা। কিন্তু সময়ের কাঁটা পেরিয়ে আলোচনা চলল টানা দুই ঘণ্টা। দ্বিপাক্ষিক এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের গভীরতা এবং গুরুত্ব ঠিক কতটা ছিল, তা এই বর্ধিত সময় থেকেই স্পষ্ট। বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিকদের কৌতূহলী প্রশ্নের মুখে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ আলোচনার ফলাফল কেমন হল? ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত অথচ ওজনদার উত্তর ছিল— ‘চমৎকার’ (Excellent)।
২০১৭ সালের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই চীন সফর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মোড়। উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ককে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা প্রায় বাণিজ্য যুদ্ধের রূপ নিয়েছিল। ফলে বেইজিংয়ের এই বৈঠক সেই বরফ গলাতে সাহায্য করবে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিংয়ের গলায় ছিল সহযোগিতার সুর। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, আমেরিকা ও চীনের একে অপরের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার’ হওয়া উচিত। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, দুই দেশের এই সম্পর্কের দিকে আজ পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে। আলোচনার টেবিলে শুধু বাণিজ্য নয়, বরং ইরানকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা নিয়েও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দিনের এই বিশেষ সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এই রসায়ন আগামীর বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে কোন নতুন বার্তা বয়ে আনে, সেটাই এখন দেখার।





