শঙ্করাচার্যের শিখা ছিঁড়ে টানল পুলিশ! প্রয়াগরাজ কাণ্ডে তোলপাড় দেশ, মেজাজ হারালেন মহন্ত রবীন্দ্র পুরী!

প্রয়াগরাজ মাঘ মেলা চত্বরে শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীর অনুগামীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহল। এই ঘটনায় মেলা প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে ময়দানে নামল অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ। পরিষদের সভাপতি মহন্ত রবীন্দ্র পুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধু-সন্তদের ওপর এই ধরণের বর্বরোতা কোনোভাবেই বরদস্ত করা হবে না।

শিখা ছিঁড়ে টানল পুলিশ! হরিদ্বারে এক বিবৃতিতে মহন্ত রবীন্দ্র পুরী বলেন, “মেলায় নিয়ম মেনে চলা সবার কর্তব্য। কিন্তু প্রয়াগরাজ মেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেভাবে ব্রহ্মচারী এবং বেদপাঠী ব্রাহ্মণদের পিটিয়েছেন, তাঁদের শিখা ধরে টেনেছেন, তা অত্যন্ত বিচলিত করার মতো দৃশ্য। শিখা বা টিকি হল সনাতন ধর্মের প্রতীক। সেই প্রতীকে হাত দেওয়া মানে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করা। দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

শঙ্করাচার্যকে বিশেষ পরামর্শ: প্রশাসনের সমালোচনা করার পাশাপাশি শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের প্রতিও বিশেষ আর্জি জানিয়েছেন মহন্ত রবীন্দ্র পুরী। তিনি বলেন, “প্রশাসন ভুল করেছে ঠিকই, কিন্তু শঙ্করাচার্য মহারাজেরও এবার জেদ ছেড়ে দেওয়া উচিত। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।” উল্লেখ্য, ১৮ জানুয়ারি থেকে প্রয়াগরাজে ধর্নায় বসে রয়েছেন শঙ্করাচার্য, যা নিয়ে সাধু সমাজ বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত।

প্রশাসনের অন্দরেও বিদ্রোহ: এই ঘটনার রেশ পৌঁছেছে উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক অলিন্দেও। শঙ্করাচার্যের শিষ্যদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে এবং ইউজিসির নতুন আইনের বিরোধিতায় নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বরেলির সিটি ম্যাজিস্ট্রেট অলঙ্কার অগ্নিহোত্রী। যদিও সরকার তাঁকে বর্তমানে সাসপেন্ড করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রয়াগরাজের মেলা চত্বর এখন ধর্মের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যুদ্ধের ময়দান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy