নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায় ‘ভুক্তভোগীদের’ নিয়ে মমতা! ফেব্রুয়ারিতেই রণক্ষেত্র দিল্লি!

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত এবার রাজপথ ছাড়িয়ে দিল্লির দরজায়। স্রেফ চিঠিপত্র বা হুঁশিয়ারি নয়, এবার সরাসরি একশন মুডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই দিল্লি সফরে যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর এবারের সফর কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সফর নয়; বরং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে হানা দিতে পারেন তিনি।

দিল্লি অভিযানের মাস্টারপ্ল্যান: তৃণমূল সূত্রে খবর, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছে শাসকদল। বহু জায়গায় দেখা যাচ্ছে, জীবিত ভোটারদের ‘মৃত’ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ধরণের হয়রানির শিকার হওয়া সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি যেতে পারেন মমতা। সাথে থাকতে পারেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জ্যান্ত মানুষকে মৃত সাজানোর প্রমাণ যদি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে কমিশনের সামনে হাজির করা হয়, তবে তা জাতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে।

এক ঢিলে দুই পাখি: ফেব্রুয়ারির শুরুতে যখন বাজেট অধিবেশন ঘিরে সরগরম থাকবে সংসদ, ঠিক তখনই দিল্লিতে পা রাখছেন মমতা। ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে সর্বদলীয় বৈঠকেও উপস্থিত থাকতে পারেন তিনি। একদিকে বিরোধী জোটের সলতে পাকানো, অন্যদিকে ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই—একই সফরে দুই লক্ষ্য পূরণ করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিপূর্বেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনো বদল হয়নি। উল্টে অভিযোগ উঠেছে, বৈধ ভোটারদের কণ্ঠরোধ করতে পদ্ধতিগত চক্রান্ত চলছে। এবার সেই লড়াইয়ের ব্যাটন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন নেত্রী স্বয়ং।

উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি: তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, নথিপত্র পরীক্ষার নামে সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন হয়রানি করছে কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী আগেভাগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, “একজন প্রকৃত ভোটারের নামও যদি বাদ যায়, তবে বাংলা ছেড়ে কথা বলবে না।” ফেব্রুয়ারির এই দিল্লি সফর আসলে সেই বৃহত্তর আন্দোলনেরই মহড়া। রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা যদি সত্যিই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে নিয়ে কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখান, তবে তা কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের জন্য বড়সড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে। এখন দেখার, এই হাই-ভোল্টেজ অভিযানে নির্বাচন কমিশন সুর বদলায় নাকি সংঘাত আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।