লোহিত সাগরে হুথিদের রক্তচক্ষু! ভারতের অর্থনীতিতে বড়সড় ধস নামার শঙ্কা, ঘুম উড়ল মোদী সরকারের!

আমেরিকা ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক রুট লোহিত সাগর বর্তমানে এক তীব্র ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের প্রকাশ্য মদদপুষ্ট হুথিরা লোহিত সাগরে এক প্রকার কঠোর নৌ-অবরোধ ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষেত্রে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও চিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া সৌদি অপরিশোধিত তেল বহনকারী একাধিক বড় ট্যাংকার বাধ্য হয়ে তাদের পূর্বনির্ধারিত পথ পরিবর্তন করেছে এবং সুয়েজ খালের দিকে সরে যেতে শুরু করেছে। এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে পশ্চিম এশিয়ার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত কেবল আঞ্চলিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর।

ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ভৌগোলিক দিক থেকে ভারতের থেকে দূরে অবস্থিত হলেও, এর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এই সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘বাব-এল-মান্দেব’ প্রণালী, যাকে আক্ষরিক অর্থে ‘অশ্রুর দ্বার’ বলা হয়ে থাকে। এই সরু জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভারত থেকে ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে পণ্য প্রেরণের জন্য এটিই সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং সুলভ সমুদ্রপথ। বর্তমান উত্তেজনার ফলে এই রুটে যাতায়াতকারী ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা চরম বিপদের মুখে পড়েছে। যদি এই সামুদ্রিক রুট দীর্ঘমেয়াদে অচল বা অবরুদ্ধ হয়ে থাকে, তবে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে বাধ্য হয়ে আফ্রিকার প্রমত্ত দক্ষিণাঞ্চল অর্থাৎ কেপ অফ গুড হোপের দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।

রুট পরিবর্তনের এই মারাত্মক সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মাল পরিবহনের খরচ বা ফ্রেইট রেট এক লাফে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার মেটাতে প্রধানত পশ্চিম এশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশে মুদ্রাস্ফীতির পারদ চড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটবে। শুধু জ্বালানি তেল নয়, ভারত থেকে ইউরোপে পাঠানো টেক্সটাইল, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবনদায়ী সামগ্রীগুলোর সরবরাহ চেইনও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তাছাড়া অতিরিক্ত সময় ও জ্বালানি খরচের কারণে ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। ডেলিসুত্র ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কেবল লোহিত সাগরের জলসীমার লড়াই নয়, এটি সরাসরি ভারতের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের ওপর এক গভীর চ্যালেঞ্জ।