মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের সিমলা গ্রামে পানীয় জলের চরম সংকট ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। গত তিন মাস ধরে পিএইচই-র (PHE) পরিশ্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত গ্রামবাসীরা। মঙ্গলবার মহিলারা বালতি ও কলসি নিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে শামিল হন। অভিযোগের তির পাম্প অপারেটর সামসুল হকের দিকে। গ্রামবাসীদের দাবি, সাধারণ মানুষকে জল না দিয়ে সেই জল টাকার বিনিময়ে মাখনা ও ভুট্টার জমিতে সেচের জন্য সরবরাহ করছেন তিনি। পাম্প অপারেটর নিজেও মাখনার জমিতে জল দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন, যদিও তাঁর দাবি একটি পাম্প খারাপ থাকায় এই বিপত্তি।
এই ঘটনার রেশ টেনেই উঠে আসছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন যেভাবে রাজ্যের একের পর এক প্রশাসনিক আধিকারিক ও আমলাদের সরিয়ে দিচ্ছে, তাতে রাজ্যে কোনো বিপর্যয় বা পরিষেবায় ঘাটতি হলে তার দায়ভার নিতে হবে কমিশন ও বিজেপি-কে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “কাল যদি লোডশেডিং হয় বা জলের সংকট দেখা দেয়, প্লিজ আমাকে দোষ দেবেন না। সব দায়িত্ব এখন নির্বাচন কমিশনের।”
সিমলা গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তীব্র গরমে জলস্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপেও জল উঠছে না। বাধ্য হয়ে আয়রনযুক্ত দূষিত জল পান করতে হচ্ছে তাঁদের। যদিও এই সমস্যা তিন মাস ধরে চলছে, তবুও ভোটের মুখে প্রশাসনিক রদবদলের আবহে এই জনরোষ নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে।