লুঠ-ডাকাতির ভয় এখন অতীত! সুইচ টিপলেই ছুটে আসবে পুলিশ, শুরু হলো নতুন ‘অ্যালার্ম সিস্টেম’

পুজোর আনন্দে যখন সেজে উঠেছে শিলিগুড়ির বিভিন্ন সোনার দোকান, ঠিক তখনই লুঠ ও ডাকাতির আশঙ্কা তাড়া করে ফিরছিল ব্যবসায়ীদের। গত কয়েক মাসে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া অপরাধের ঘটনা এই ভয়কে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। কিন্তু এবার সেই ভয়ের দিন শেষ হতে চলেছে। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ চালু করল এক নতুন এবং আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা ব্যবসায়ীদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
বুধবার পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘থেফট অ্যালার্ম সিস্টেম’-এর সূচনা হয়েছে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে প্রতিটি দোকানে একটি ছোট সুইচ বসানো থাকবে। কোনো বিপদ বা দুষ্কৃতী হামলা হলে ব্যবসায়ীরা সেই সুইচটি টিপলেই সরাসরি থানায় বা ফাঁড়িতে সাইরেন বেজে উঠবে। শুধু তাই নয়, সাইরেনের সঙ্গে সঙ্গে থানার মনিটরে ভেসে উঠবে দোকানের নাম, মালিকের ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর। ফলে পুলিশ মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় ১০০টি দোকানে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এই সার্ভারটি বসানোর দায়িত্ব পেয়েছে মালদার একটি বেসরকারি সংস্থা। খরচের দিক থেকেও এটি সাশ্রয়ী। বড় দোকানে ১৫-১৭ হাজার টাকা এবং ছোট দোকানে ১০-১২ হাজার টাকা খরচেই এই ডিভাইস বসানো যাবে। যদিও খরচ ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হবে।
পুলিশের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ সিং জানান, এই প্রযুক্তি চালু হলে অপরাধীরা অনেকটাই নিরুৎসাহিত হবে। তিনি আশা করছেন, এতে শিলিগুড়ির অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। ব্যবসায়ীরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে রাতের ঘুমটা অন্তত শান্তিতে হবে এবং পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বাড়বে। পুজোর আগে শিলিগুড়ির নিরাপত্তার এই নতুন ঢাল নিশ্চিতভাবেই এক নতুন ভরসার আলো জ্বেলেছে।