গত বছরের সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরের লাজারাস দ্বীপের কাছে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয়েছিল জনপ্রিয় গায়ক ও গীতিকার জুবিন গর্গের। বুধবার সিঙ্গাপুরের করোনার আদালতে সেই মৃত্যুর তদন্ত রিপোর্ট পেশ করল পুলিশ। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, মৃত্যুর সময় জুবিন গর্গ মারাত্মকভাবে মদ্যপ ছিলেন এবং তাঁর এই করুণ পরিণতির পিছনে কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের প্রমাণ মেলেনি।
সিঙ্গাপুর পুলিশের পেশ করা তথ্যের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এখানে তুলে ধরা হলো:
বিপজ্জনক মাত্রায় অ্যালকোহল: টক্সিকোলজি রিপোর্টে দেখা গেছে, জুবিনের রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ৩৩৩ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল ছিল। যা সিঙ্গাপুরের আইনি সীমা (৮০ মিলিগ্রাম)-র চেয়ে ৪ গুণ বেশি।
সমন্বয়হীনতা: পুলিশ জানিয়েছে, শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা এত বেশি ছিল যে তাঁর স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
লাইফ জ্যাকেট প্রত্যাখ্যান: তদন্তে জানা গেছে, সাঁতার কাটার সময় প্রথমে লাইফ জ্যাকেট পরলেও পরে তা খুলে ফেলেন জুবিন। দ্বিতীয়বার তাঁকে জ্যাকেট দিতে চাওয়া হলেও তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন।
একাই সমুদ্রে যাত্রা: লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই তিনি ইয়ট থেকে জলে নামেন এবং একা লাজারাস দ্বীপের দিকে সাঁতার কাটতে শুরু করেন।
হঠাৎ নিস্তেজ হওয়া: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ সাঁতার কাটার পর ইয়টে ফেরার সময় হঠাৎই তিনি নিস্তেজ হয়ে জলে ভেসে ওঠেন।
উদ্ধার প্রচেষ্টা: দ্রুত তাঁকে ইয়টে তুলে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট: ময়নাতদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে যে জলে ডুবেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। শরীরে সামান্য যে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, তা উদ্ধারের সময় বা সিপিআর দেওয়ার সময় হয়েছে বলে ধারণা।
মদের বোতল উদ্ধার: জুবিনের হোটেল রুম থেকে একটি ৭৫০ মিলিলিটার স্কচ হুইস্কির বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা প্রায় ৭৫ শতাংশই খালি ছিল।
পারফরম্যান্সের আগের দুর্ঘটনা: ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে গান গাওয়ার কথা ছিল জুবিনের। তার ঠিক একদিন আগেই ইয়ট পার্টিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ষড়যন্ত্র নাকচ: সিঙ্গাপুর পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, জুবিন গর্গের মৃত্যুতে বাইরের কোনও ব্যক্তির হাত বা কোনও অপরাধমূলক অভিসন্ধি খুঁজে পাওয়া যায়নি।





