লম্বা পাসওয়ার্ডের দিন শেষ! ফোনের সুরক্ষায় এই ছোট্ট ভুলটি করলেই খালি হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট!

স্মার্টফোনের সুরক্ষা নিয়ে কম-বেশি সকলেরই মাথা সবসময় খারাপ হয়ে যায়! সারাদিন কি মনে এই ভীতি কাজ করে যে, এই বুঝি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে গেল, কিংবা ফোনের দরকারি ছবি ও চ্যাট অন্যের হাতে চলে গেল? সারাদিনের ব্যাংকিং লেনদেন, অফিসের জরুরি মেইল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, সবকিছুই এখন আবর্তিত হয় একটিমাত্র মুঠোফোনে। তাই ফোন সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে অনেকেই মনে করেন, অনেক বড় ও জটিল কোনও পাসওয়ার্ড দিলেই বুঝি সমস্ত বিপদ থেকে চিরতরে মুক্তি মিলবে। কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট দাবি, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল!

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? আসলে অনলাইনে সুরক্ষিত থাকা আর ফোনের স্ক্রিন লক করা, এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। ফেসবুক বা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে লম্বা ও জটিল পাসওয়ার্ড খুব ভালো ও কার্যকরভাবে কাজ করে। কিন্তু দিনে একশো বার ফোন খোলার সময় অত বড় পাসওয়ার্ড বারবার টাইপ করা অত্যন্ত বিরক্তিকর। এই ঝামেলা এড়াতে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষ পাসওয়ার্ডটি ফোনের নোটবুকে লিখে রাখেন বা কাছের কাউকে বলে দেন। আর এই ছোট্ট ভুলেই ফোনের পুরো নিরাপত্তা একেবারে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

ঠিক এই কারণেই ফোনের স্ক্রিন লকের ক্ষেত্রে একটি শক্তপোক্ত চার বা ছয় অঙ্কের পিন (PIN) অনেক বেশি কাজের। আধুনিক স্মার্টফোনে এমন উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে যে, কেউ ভুল পিন বারবার দিলে চেষ্টা করার সময় ক্রমাগত বেড়ে যায় বা ফোন কিছুক্ষণের জন্য নিজে থেকেই লক হয়ে যায়। ফলে বাইরের কোনও মানুষ আন্দাজে ভুল নম্বর বসিয়ে ফোন খোলার সুযোগ পায় না। তবে পিন নির্ধারণ করার সময় ১২৩৪, ০০০০, কিংবা নিজের জন্মতারিখ বা গাড়ির নম্বরের মতো সহজ সংখ্যা কখনও ব্যবহার করা চলবে না। এমন একটি পিন বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, যার সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের কোনও মিল নেই।

অন্যদিকে, অনলাইন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে অবশ্যই লম্বা ও কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যাংকিং অ্যাপের জন্য সবসময় আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। এর পাশাপাশি চালু রাখতে হবে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA)। এর ফলে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও আপনার স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া কেউ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে না। অর্থাৎ, ফোনের স্ক্রিনে একটি নিরাপদ পিন আর অনলাইন অ্যাকাউন্টে শক্তপোক্ত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলেই আপনার ডিজিটাল জীবন থাকবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।