ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণায় এক বিরাট মাইলফলক! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস Mk1A (Tejas Mk1A) যুদ্ধবিমানের মরণঘাতী ক্ষমতা পরখ করে নিল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)। আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমি— দুই মাধ্যমেই লক্ষ্যভেদে ১০০ শতাংশ সফল হয়েছে এই আধুনিক ফাইটার জেট। কিন্তু এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের মাঝেও কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশি যন্ত্রাংশ এবং লাল ফিতের ফাঁস।
পরীক্ষায় বাজিমাত: কী কী ক্ষমতা বাড়ল?
হ্যাল (HAL) সূত্রে খবর, তেজস Mk1A এখন ‘ফুল কনফিগারেশন’-এ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। সাম্প্রতিক ট্রায়ালে যে বিষয়গুলো নজর কেড়েছে:
দৃষ্টিসীমার বাইরে আঘাত (BVR): অনেক দূর থেকে শত্রু বিমান ধ্বংস করতে সক্ষম।
ক্লোজ কমব্যাট: কাছাকাছি যুদ্ধের জন্য ASRAAM ক্ষেপণাস্ত্রের সফল প্রয়োগ।
নিখুঁত বোমাবর্ষণ: লেজার-নিয়ন্ত্রিত বোমার সাহায্যে মাটিতে শত্রুঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা।
সফটওয়্যার আপডেট: দীর্ঘদিনের বকেয়া সফটওয়্যার প্যাচের কাজ শেষ হওয়ায় বিমানটি এখন অনেক বেশি ক্ষিপ্র।
সাফল্যের মাঝেও কেন দুশ্চিন্তার মেঘ?
এত বড় সাফল্যের পরেও ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) স্কোয়াড্রনে এই বিমান অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এর প্রধান কারণ দুটি:
১. মার্কিন ইঞ্জিনের জট: বিমানের কাঠামো তৈরি থাকলেও তাতে প্রাণ দেওয়ার ‘ইঞ্জিন’ নেই। মার্কিন সংস্থা GE Aerospace-এর কাছ থেকে F404-IN20 ইঞ্জিন আসার কথা ছিল। কিন্তু সরবরাহে চরম বিলম্বের কারণে ৯টি বিমান ইঞ্জিন ছাড়াই হ্যাঙ্গারে পড়ে আছে। এ পর্যন্ত মাত্র ৫টি ইঞ্জিন ভারতে পৌঁছেছে।
২. সার্টিফিকেশনের লাল ফিতে: অস্ত্র পরীক্ষায় পাস করলেই কেল্লা ফতে নয়। বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়ার আগে প্রয়োজন CMAC (Centre for Military Airworthiness & Certification)-এর চূড়ান্ত ছাড়পত্র। সেই আইনি ও প্রযুক্তিগত অনুমোদনের অপেক্ষাতেই থমকে আছে ডেলিভারি প্রক্রিয়া।
কেন তেজস Mk1A ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা প্রকল্পে তেজস Mk1A একটি গেম-চেঞ্জার। এতে রয়েছে উন্নত রাডার এবং শক্তিশালী ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, যা একে আগের মডেলের তুলনায় অনেক বেশি ঘাতক করে তুলেছে।
প্রযুক্তিগত ভাবে ভারত আজ স্বাবলম্বী হলেও, ইঞ্জিন সরবরাহ এবং প্রশাসনিক জটিলতা না কাটলে বায়ুসেনার শক্তিবৃদ্ধি আরও কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।