বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের রণডঙ্কা বাজতেই প্রতিবেশী রাজ্য অসম থেকে উড়ে এসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সোমবার এক জনসভা থেকে তৃণমূলের তুরুপের তাস ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে কার্যত তুলোধনা করলেন তিনি। হিমন্তের দাবি, মাসে মাত্র ১৫০০ টাকা দিয়ে বাংলার মহিলাদের অপমান করছেন মমতা, এমনকি ‘লক্ষ্মী মা’-কেও তিনি ‘কিপ্টে’ বানিয়ে ছেড়েছেন।
কী বললেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা? এদিন জনসভায় দাঁড়িয়ে হিমন্ত বলেন, “মমতা দিদি বলছেন তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন। কত টাকা দিচ্ছেন? মাসে ১০০০ বা ১৫০০ টাকা? এতে একটা পরিবারের কী হয়? মমতা দিদি লক্ষ্মী মা-কে বড্ড কিপ্টে বানিয়ে দিয়েছেন। আমাদের অসমে মা-বোনেরা যখন অরুণোদয় প্রকল্পে সুবিধা পান, তখন সেই টাকার অঙ্ক বাংলার তুলনায় অনেক বেশি। আর বিজেপির সংকল্প পত্রে আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তাতে বছরে মা-বোনেদের হাতে অন্তত ৩০ হাজার টাকা পৌঁছবে।”
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অরুণোদয়: হিমন্ত আরও অভিযোগ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের স্বনির্ভর করার বদলে তাঁদের সরকারি দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভরশীল করে রাখছেন। তাঁর কথায়, “১৫০০ টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায় না। বাংলার মা-বোনেদের প্রয়োজন সম্মান এবং স্থায়ী রোজগার। মমতা দিদি সেই কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ হয়ে এখন সামান্য টাকা দিয়ে ভাঁওতা দিচ্ছেন।”
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল: বিজেপির এই ‘ফায়ারব্র্যান্ড’ নেতার মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, অসমের বিজেপি সরকার নিজের রাজ্যের উন্নয়ন সামলাতে পারছে না, আর বাংলায় এসে কুৎসা ছড়াচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের পাল্টা প্রশ্ন, “অসমে ক’জন মহিলা এই সুবিধা পান? বাংলায় ২ কোটির বেশি মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, বিজেপি কি সেটা বন্ধ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে?”
ভোটের মুখে নারীর মন জয়: বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার নির্বাচনে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক অত্যন্ত নির্ণায়ক। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জনপ্রিয়তা রুখতে বিজেপি এখন থেকেই বড় অংকের টাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাল্টা চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই ‘কিপ্টে’ খোঁচা কি বাংলার মা-বোনেদের মনে কোনো প্রভাব ফেলবে? নাকি তৃণমূলের ‘ভাণ্ডার’-এই আস্থা রাখবে বাংলা? উত্তর দেবে ভোটবাক্স।





