২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই পারদ চড়ছে বাংলার সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ নিয়ে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেবে— তৃণমূলের এই প্রচারকে নস্যাৎ করতে এবার পাল্টা চাল দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নদিয়ার চাকদহের জনসভা থেকে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
অন্য রাজ্যে টাকার অঙ্ক কত? শুভেন্দুর পরিসংখ্যান: এদিনের সভা থেকে শুভেন্দু দাবি করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মহিলাদের অনেক বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
-
ওড়িশা: বছরে এককালীন ৫০ হাজার টাকা।
-
হরিয়ানা: মাসে ২১০০ টাকা।
-
মহারাষ্ট্র: দেবেন্দ্র ফড়ণবীস সরকার দিচ্ছে মাসে ২০০০ টাকা।
-
দিল্লি: আড়াই হাজার টাকা করে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিজেপির নয়া স্ট্র্যাটেজি: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যের লক্ষ্য স্পষ্ট— বাংলার মহিলাদের আশ্বস্ত করা যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না, বরং অর্থের পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। এর আগে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বঙ্গ সফরে এসে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন, “বিজেপি সরকার গড়লেও বর্তমানের কোনো জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বন্ধ হবে না।”
ভোটের মুখে মাস্টারস্ট্রোক? তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই দাবি করে আসছে যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তাদের তুরুপের তাস। কিন্তু শুভেন্দু এবং সুকান্ত মজুমদারের ধারাবাহিক আশ্বাস সেই প্রচারকে ভোঁতা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, তাঁরা ক্ষমতায় এলে ইস্তেহারে আরও আকর্ষণীয় কোনো প্রকল্পের ঘোষণা করবেন যা সাধারণ মানুষের হাতে আরও বেশি টাকা পৌঁছে দেবে।
ছাব্বিশের নির্বাচনে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ যে আবারও গেমচেঞ্জার হতে চলেছে, তা শুভেন্দুর এদিনের গলা ফাটানো বক্তৃতা থেকেই পরিষ্কার। এখন প্রশ্ন হলো, বাংলার মহিলারা কার ‘গ্যারান্টি’তে ভরসা রাখবেন?