লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি এবার বন্ধ? ৯১ লক্ষ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ, বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রা পালের!

বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর দায়িত্ব নিয়েই অ্যাকশন মোডে নতুন বিজেপি সরকার। এবার রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে এক নজিরবিহীন ও বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলল। নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তারা আর কোনও সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না— সরকারের এই কড়া বার্তায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

নাগরিক না হলে মিলবে না সুবিধা
রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের নবনিযুক্ত মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “যিনি এই দেশের নাগরিক নন, তিনি কোনওভাবেই সরকারি কোষাগারের সুবিধা ভোগ করতে পারেন না।” সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে মূলত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনপ্রিয় প্রকল্পের উপভোক্তাদের ওপর বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। জানা যাচ্ছে, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাদের আর নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

৯১ লক্ষ মানুষের ভাগ্য ঝুলে তালিকায়
নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা যুক্তিগত অসংগতির কারণে। যদিও এই তালিকা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। বহু পরিবারের অভিযোগ— নামের বানান ভুল, ঠিকানার সামান্য অসংগতি বা নথির অভাবের মতো ছোটখাটো কারণে তাদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার এই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়া বন্ধ করতে অনড়।

জুন মাস থেকেই শুরু হচ্ছে ছাঁটাই
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ১ জুনের আগে পুরো তালিকাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। তিনি বলেন, “মৃত ব্যক্তি কিংবা যারা এই দেশের নাগরিক নন, তাদের নাম অবিলম্বে উপভোক্তার তালিকা থেকে সরানো হবে। এমনকি যাদের আবেদন বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাদেরও আপাতত কোনও সরকারি সুবিধার আওতায় রাখা হবে না।” তবে সিএএ (CAA)-এর আওতায় যারা নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ, যাদের নথিপত্র আপডেট ছিল না, তারা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটি শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধন নয়, বরং সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধের একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। তাদের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা মৃত ব্যক্তিদের পিছনে সরকারি টাকা খরচ না করে তা প্রকৃত নাগরিকদের কল্যাণে ব্যবহার করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy