লকারে পড়ে থাকা সোনা এখন স্বপ্নের চাবিকাঠি! জেন-জি ও মিলিয়েনিয়ালদের নতুন ট্রেন্ডে চমকে উঠবেন আপনি

বছরের পর বছর ধরে ব্যাংকের লকারে বা বাড়ির সিন্দুকে অলস পড়ে থাকা সোনার গয়না এখন আর কেবল স্মৃতির স্মারক নয়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সোনা মানে এখন আর শুধু সাজসজ্জার মাধ্যম নয়, বরং জীবনের বড় লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পুরনো গয়না বিক্রি করে বাড়ি কেনা, বিদেশের উচ্চশিক্ষা কিংবা নতুন ব্যবসার পুঁজি জোগাড়—এই নতুন ট্রেন্ডে মেতেছে ভারতের জেন-জি (Gen Z) ও মিলিয়েনিয়ালরা।

কেন এই পরিবর্তন? ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে এখন আবেগ ছাপিয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয়তা। রিতু ও মদন পাটিলের মতো বহু দম্পতি এখন পুরনো গয়না বেচে পাওয়া টাকা দিয়ে বাড়ির ডাউন পেমেন্ট করছেন, যা তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক চাপ (EMI) কমিয়ে দিচ্ছে। মুথুট এক্সিমের সিইও কেয়ুর শাহ-এর কথায়, “নতুন প্রজন্মের কাছে বড় লক্ষ্যপূরণই প্রধান। তাদের কাছে পুরনো গয়না এখন আর কেবল আবেগের বিষয় নয়।”

বিনিয়োগের নতুন মাধ্যম পরিসংখ্যান বলছে, ভারত এখন গয়না কেনা থেকে সরে এসে সোনার বার বা কয়েন কেনার দিকে বেশি ঝুঁকছে। আইসিআরএ (ICRA)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে গয়নার চাহিদা কমে গেলেও সোনার কয়েন ও বারে বিনিয়োগ বেড়েছে ২২ শতাংশ। তরুণদের মতে, সোনা একটি ‘অ্যাসেট’ বা সম্পদ, যা লকারে বন্ধ রেখে লাভ নেই। ভালো দাম পেলে তা বিক্রি করে শেয়ার বাজার বা অন্য কোনো বেশি রিটার্ন পাওয়া যায় এমন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

শিক্ষায় ও ব্যবসায় সোনার ব্যবহার কেবল বিলাসিতা নয়, শিক্ষার খরচ বা ব্যবসার মূলধন জোগাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে এই সোনা। ব্যাঙ্গালোরের একটি পরিবার লকারের সোনা বিক্রি করে ৮০ লক্ষ টাকা জুটিয়েছেন, যা দিয়ে পরিবারের সন্তানের আমেরিকার মাস্টার্স ডিগ্রি এবং বাবার নতুন ব্যবসা শুরু হয়েছে। তাঁদের মতে, আপদকালীন সময়ের পাশাপাশি জীবনের বড় লক্ষ্য পূরণের জন্যই সোনা সঞ্চয় করা উচিত।

গোল্ড রিসাইক্লিং-এ জোয়ার এই প্রবণতার ফলে দেশজুড়ে বাড়ছে গোল্ড রিসাইক্লিং বা সোনা পুনরায় ব্যবহারের হার। টাইটান কোম্পানির তানিষ্ক স্টোরগুলোতে গত নয় মাসে ৫ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক প্রায় ১১,০০০ কিলোগ্রাম সোনা এক্সচেঞ্জ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে একদিকে যেমন মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হচ্ছে, অন্যদিকে দেশে সোনার আমদানিনির্ভরতাও কমে আসছে।

আবেগ বনাম বাস্তবতা সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বিয়ের অনুষ্ঠান বা উৎসবের ক্ষেত্রে সোনার আবেগগত গুরুত্ব হয়তো কখনোই পুরোপুরি মুছে যাবে না। তবে নতুন প্রজন্ম এখন ভারী গয়নার বদলে হালকা ডিজাইনের গয়না বা গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF)-এর মতো আধুনিক বিনিয়োগ বিকল্পকেই বেশি পছন্দ করছে। অর্থাৎ, লকারের সোনা এখন আর কেবল দেখার জন্য নয়, বরং জীবনের স্বপ্নপূরণের সারথি হয়ে উঠছে।