লকারে নয়, সোনার মালিকানা রেখেও বছরে ৭% পর্যন্ত রিটার্ন! বিনিয়োগকারীদের নতুন পছন্দ ‘গোল্ড লিজিং’

সোনা শুধুমাত্র একটি অলংকার নয়, একটি সুরক্ষিত সম্পদও বটে। অনেকেই সোনা ব্যাঙ্ক লকারে রাখেন, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির বাজারে লকারে ফেলে রাখলে তা থেকে কোনও আয় হয় না। এই পরিস্থিতিতে, বিনিয়োগকারীরা এখন তাদের সোনা থেকে বাড়তি রোজগারের জন্য নতুন পথে হাঁটছেন—যা হল ‘গোল্ড লিজিং’।
গোল্ড লিজিং (Gold Leasing) স্কিমে আপনার সোনা ভাড়া দিয়ে বছরে ১% থেকে ৭% পর্যন্ত রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। সোনা আপনারই থাকবে, কিন্তু লকারে ফেলে রাখার বদলে এটি আপনার জন্য আয় তৈরি করবে।
কী এই গোল্ড লিজিং?
যদি আপনার কাছে কিছু সোনা থাকে যা আপনি এখনই বিক্রি করতে চান না, অথচ লকারে রাখলে তা থেকে কোনও লাভ হচ্ছে না, তবে সেই সোনা আপনি জুয়েলার, রিফাইনারি কিংবা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিতে পারেন। মূলত, এই সোনা ব্যবহার করা হয় গয়না তৈরির জন্য, রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াকরণের জন্য কিংবা আন্তর্জাতিক ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের কাজে।
বদলে আপনি নগদ টাকা অথবা সোনার আকারে সুদ পাবেন। এই পদ্ধতিকেই বলা হয় গোল্ড লিজিং।
গোল্ড লিজিংয়ে কীভাবে আয় হবে?
সাধারণত, গোল্ড লিজিংয়ে বছরে ১% থেকে ২% রিটার্ন পাওয়া যায়। তবে বাজারে সোনার চাহিদা যখন বেশি থাকে, তখন সেই রিটার্নের হার ৫% থেকে ৬% পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই রিটার্নের পরিমাণ ৭% পর্যন্তও দাঁড়ায়। যেহেতু মালিকানা আপনারই থাকে, তাই এটিকে লকারে রেখে অতিরিক্ত আয়ের এক দুর্দান্ত সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
বিশ্বব্যাপী এখন লন্ডন ওটিসি (London OTC), এলবিএমএ (LBMA) এবং কমিক্স (COMEX)-এ সবথেকে বেশি সোনা লিজিংয়ের লেনদেন হয়। ভারতেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অনেক জুয়েলারি কোম্পানি এবং রিফাইনারি সরাসরি সোনা লিজিংয়ের সুবিধা দিচ্ছে।
এছাড়াও, ডিজিটাল সোনা প্ল্যাটফর্ম আরএসবিএল (RSBL) ও গুল্লাক (Gullak)-এর মাধ্যমেও সোনা লিজিংয়ের সুযোগ রয়েছে। ব্যাঙ্কের গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমে সোনা রেখেও সুদ আয় করা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
গোল্ড লিজিং যেহেতু নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই হয়ে থাকে, তাই অন্যান্য বিনিয়োগের মতো এখানেও ঝুঁকি থাকে। বিনিয়োগের আগে প্ল্যাটফর্ম যাচাই করা, বিশ্বস্ত জুয়েলার বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লিজ দেওয়া এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।