রোদে পুড়ে ডেলিভারি আর নয়! কেন্দ্রীয় মন্ত্রককে চিঠি গিগ কর্মীদের, চাইলেন ‘কুলিং ব্রেক’

ভোর হতেই গুমোট গরম, আর বেলা বাড়লেই চড়চড় করে বাড়ছে পারদ। দিল্লির মতো একাধিক রাজ্যে তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৪৩ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। বইছে লু। এই প্রবল দাবদাহের মধ্যেই পেটের তাগিদে রাস্তায় থাকতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ গিগ কর্মীদের (Gig Workers)। জোম্যাটো, সুইগি হোক বা উবার-ওলা—রোদে পুড়ে আপনার দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দিতে গিয়ে হিট স্ট্রোকে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে এবার নিজেদের সুরক্ষায় সরাসরি কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের দ্বারস্থ হল ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স (IFAT)।
২০২০-র সামাজিক সুরক্ষা কোড কার্যকর করার দাবি:
শ্রমমন্ত্রককে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০২০ সালের সামাজিক সুরক্ষা কোডের আওতায় গিগ কর্মীদের জন্য অবিলম্বে ‘হিটওয়েভ সুরক্ষা’ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু খাবার ডেলিভারি নয়, আরবান কোম্পানির মতো হোম সার্ভিস বা অ্যাপ ক্যাব চালকদের জীবনও এই গরমে ওষ্ঠাগত। দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর বা জাপানের মতো দেশগুলি ইতিমধ্যেই তীব্র গরম থেকে শ্রমিকদের বাঁচাতে আইন এনেছে, এবার ভারতকেও সেই পথে হাঁটার আবেদন জানানো হয়েছে।
গিগ কর্মীদের প্রধান দাবিগুলি কী কী?
গিগ কর্মীরা মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন:
কুলিং ব্রেক: আবহাওয়া দপ্তর যখন অরেঞ্জ বা রেড অ্যালার্ট জারি করবে, তখন কর্মীদের ‘সবেতন বিরতি’ দিতে হবে। অর্থাৎ জিরিয়ে নেওয়ার জন্য এই বিরতির সময় কোনও টাকা কাটা যাবে না।
পর্যাপ্ত জোগান: প্রতিটি ডেলিভারি পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর পানীয় জল, ওআরএস (ORS) এবং শীতল বিশ্রাম কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে।
জরিমানা মকুব: তীব্র গরমে দেরি হলে বা কাজ বন্ধ রাখলে আইডি ব্লক করা বা ইনসেনটিভ কেটে নেওয়ার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।
সময়সীমা বদল: দিল্লির তীব্র গরমে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
জনগণের কাছেও বিশেষ আবেদন:
সংগঠনের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের কাছেও একটি মানবিক আবেদন রাখা হয়েছে। তেলাঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (TGPWU) গ্রাহকদের অনুরোধ করেছে, প্রখর রোদে যে যুবকটি আপনার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে, তাঁকে অন্তত এক গ্লাস ঠান্ডা জল দিন। এই ছোট সাহায্যটুকু তাঁদের কাছে জীবনদায়ী হতে পারে। গিগ কর্মীদের দাবি, গরম থেকে সুরক্ষা পাওয়া কোনও বিলাসিতা নয়, এটি তাঁদের শ্রমিকের অধিকার।