সঞ্চয় মানেই কি বড় অঙ্কের টাকা? একেবারেই নয়। বরং ছোট ছোট পা ফেলাই যে বড় সাফল্যের চাবিকাঠি, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল বর্তমান বাজারের সেভিংস ক্যালকুলেটর। প্রতিদিনের খরচ থেকে সামান্য ২০০ টাকা বাঁচিয়ে যদি সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা যায়, তবে ২০ বছর পর আপনার হাতে আসতে পারে এক বিশাল অঙ্কের তহবিল। মধ্যবিত্তের কোটিপতি হওয়ার এই সহজ ফর্মুলা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল।
কিভাবে কাজ করে এই জাদুর অঙ্ক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনি যদি প্রতিদিন ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করেন, তবে মাসে আপনার জমানোর পরিমাণ দাঁড়াবে ৬,০০০ টাকা। এই টাকাটি যদি আপনি কোনো ভালো মিউচুয়াল ফান্ড বা এসআইপি (SIP)-তে বিনিয়োগ করেন এবং বার্ষিক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ রিটার্ন পান, তবে ২০ বছর পর আপনার জমানো মূল ধনের চেয়ে প্রাপ্ত রিটার্নের পরিমাণ আপনাকে অবাক করবে।
২০ বছরে কত টাকার তহবিল? ধরা যাক, আপনি মাসে ৬,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করছেন। ১৫ শতাংশ বার্ষিক রিটার্নের হিসেব ধরলে:
মোট বিনিয়োগ: ২০ বছরে আপনি জমা করবেন ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
প্রাপ্ত রিটার্ন: আপনি সুদ বা লাভ হিসেবে পেতে পারেন প্রায় ৭৭ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।
চূড়ান্ত তহবিল: সব মিলিয়ে ২০ বছর পর আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকতে পারে প্রায় ৯১ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা!
পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং: এই সাফল্যের আসল রহস্য হলো ‘পাওয়ার অফ কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি সুদ। যত বেশি সময় আপনি টাকাটি বিনিয়োগ করে রাখবেন, আপনার লাভ তত দ্রুত হারে বাড়বে। প্রথম ১০ বছর টাকাটি খুব ধীরে বাড়ছে মনে হলেও, শেষ ৫-৭ বছরে তা রকেটের গতিতে বৃদ্ধি পায়।
কোথায় বিনিয়োগ করবেন? বাজারে বর্তমানে অনেক অপশন থাকলেও ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ড দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই একজন আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তাই প্রতিদিনের ছোট ছোট বিলাসিতা একটু কমিয়ে যদি আজ থেকেই এই ২০০ টাকার চ্যালেঞ্জ শুরু করতে পারেন, তবে আপনার আগামী ২০ বছর যে অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং সমৃদ্ধ হবে, তা বলাই বাহুল্য। পকেটের সামান্য টাকা বাঁচিয়েই যদি ‘কেল্লাফতে’ করা যায়, তবে আর দেরি কেন?





