রেল যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক সফর নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির চরম শিখরে পৌঁছে গেল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। কামাখ্যা কোচিং ডিপোতে অত্যাধুনিক ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একগুচ্ছ নিজস্ব প্রযুক্তির উদ্ভাবন করল রেল কর্তৃপক্ষ। তালিকায় রয়েছে ‘পোর্টেবল ভাইব্রেশন মনিটরিং সিস্টেম’ থেকে শুরু করে ‘এয়ার স্প্রিং মনিটরিং’-এর মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তি।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা? ট্রেনের চাকা থেকে শুরু করে কোচের অভ্যন্তরীণ প্রতিটি যন্ত্রাংশের ওপর কড়া নজরদারি চালাবে এই ব্যবস্থা। রেল সূত্রে খবর:
পোর্টেবল ভাইব্রেশন মনিটরিং সিস্টেম: এটি রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিকভাবে রোলিং স্টকের কম্পন পর্যবেক্ষণ করবে। ফলে কোনও বড় যান্ত্রিক ত্রুটি হওয়ার আগেই তা ধরা পড়বে এবং সময়মতো মেরামত করা সম্ভব হবে। এতে মাঝপথে ট্রেন বিকল হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
এয়ার স্প্রিং মনিটরিং সিস্টেম: উন্নত অ্যাকোস্টিক ইমেজিং কৌশলের মাধ্যমে ট্রেনের কোচগুলির ভারসাম্যের প্যারামিটার ট্র্যাকিং করবে এটি। যান্ত্রিক অসঙ্গতি শনাক্ত করার মাধ্যমে যাত্রীদের ঝাঁকুনিহীন ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা হবে।
দেশীয় প্রি-কুলিং সিস্টেম: রক্ষণাবেক্ষণের সময় যখন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে, তখনও ট্রেনের এসি (HVAC), লাইটিং এবং ডায়াগনস্টিক সিস্টেম সচল রাখতে সক্ষম এই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবস্থা।
কেন এই উদ্যোগ? চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই কামাখ্যা ও হাওড়ার মধ্যে চলাচল শুরু করেছে ভারতের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস’। এই প্রিমিয়াম ট্রেনের বিশ্বমানের মান বজায় রাখতেই নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই সাশ্রয়ী ও স্মার্ট রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে।
রেলের বার্তা রেল কর্মকর্তাদের মতে, এই ‘স্মার্ট মনিটরিং’ ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে রক্ষণাবেক্ষণের দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনই কমবে যান্ত্রিক গোলযোগের সম্ভাবনা। যা সামগ্রিকভাবে যাত্রী সুরক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।





