প্রতিদিন লোকাল ট্রেনে অফিস বা কলেজে যাতায়াত করেন? তাহলে মাসের শুরুতে স্রেফ ‘মান্থলি’ বা মাসিক টিকিট কাটার অভ্যেস এবার বদলানোর সময় এসেছে। রেলের নতুন ডিজিটাল পরিষেবা এবং দীর্ঘমেয়াদী পাসের সুবিধা নিলে যাতায়াতের খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। রেলওয়ে আধিকারিকদের মতে, একটু পরিকল্পনা করে টিকিট কাটলে বছরে অন্তত ১৫-২০ শতাংশ টাকা সাশ্রয় করতে পারেন নিত্যযাত্রীরা।
মান্থলি নয়, নজর দিন কোয়ার্টারলি ও অ্যানুয়াল পাসে
অধিকাংশ যাত্রীই প্রতি মাসে টিকিট রিনিউ করার ঝামেলা পোহান। কিন্তু আপনি কি জানেন, এক মাসের বদলে তিন মাস বা এক বছরের পাস কাটলে খরচ অনেকটাই কমে যায়?
কোয়ার্টারলি (৩ মাস): মাসিক টিকিটের তুলনায় প্রায় ৮-১২ শতাংশ সাশ্রয় হয়। যেমন, কোন্নগর থেকে হাওড়ার মান্থলি ১০০ টাকা হলে, ৩ মাসের পাস মাত্র ২৬০ টাকা। অর্থাৎ পকেটে বাঁচছে ৪০ টাকা!
হাফ-ইয়ারলি (৬ মাস): ছয় মাসের পাসে সাশ্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ে।
অ্যানুয়াল (১ বছর): সবচেয়ে বেশি লাভজনক হলো বার্ষিক পাস। এতে মোট খরচের ওপর প্রায় ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া সম্ভব।
লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ: ব্যবহার করুন ‘Rail One’ অ্যাপ
স্টেশনের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার দিন এখন অতীত। ‘Rail One’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন কয়েক মিনিটেই ডিজিটাল পাস বুক করা যাচ্ছে।
সহজ পদ্ধতি: অ্যাপ ডাউনলোড করে রেজিস্ট্রেশন সেরে নিন।
পছন্দমতো অপশন: নিজের রুট সিলেক্ট করে মান্থলি, কোয়ার্টারলি বা অ্যানুয়াল—যে কোনও একটি বেছে নিন।
ডিজিটাল টিকিট: অনলাইনে পেমেন্ট করলেই ফোনে চলে আসবে কিউআর কোড যুক্ত পাস। আলাদা করে প্রিন্ট নেওয়ার দরকার নেই, টিটিই-কে ফোনেই টিকিট দেখানো যাবে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী পাস নেওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি ওই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করবেন কি না। কারণ, একবার দীর্ঘমেয়াদী পাস কেটে ফেললে মাঝপথে তা বন্ধ করলে কোনও ‘রিফান্ড’ বা টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। তাই টানা যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে তবেই কোয়ার্টারলি বা অ্যানুয়াল পাসের পথে হাঁটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
স্মার্ট যাত্রী হোন, প্রযুক্তি ব্যবহার করুন আর পকেটের টাকা বাঁচান!





